
ভারতের ছত্তিশগড়ে বিজয়া দশমীর অস্ত্রপূজার অনুষ্ঠানে একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে একাধিক গুলি ছোড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্কে জড়িয়েছেন আইপিএস কর্মকর্তা অঙ্কিতা শর্মা। অস্ত্র ব্যবহারের নিরাপত্তাবিধি ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা।
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের রাজনন্দগাঁও জেলার পুলিশ সুপার অঙ্কিতা শর্মার গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে নীল শাড়ি পরে একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে আকাশের দিকে একাধিক গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে অন্তত ১০টি গুলি ছোড়ার দৃশ্য রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজনন্দগাঁওয়ের পুলিশ লাইনে ঐতিহ্যবাহী ‘শস্ত্রপূজা’ বা অস্ত্রপূজার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুলিশের অস্ত্র ও যানবাহনের পূজা করা হয়। এ সময় অঙ্কিতা শর্মা একে-৪৭ দিয়ে গুলি ছোড়েন। তার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তন রাঠোরকেও একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা যায় অন্য একটি ভিডিওতে।
ছত্তিশগড়ের রায়পুর, বিলাসপুর, রায়গড়, দুর্গ, কবীরধাম ও বস্তারসহ বিভিন্ন জেলার দশেরার অনুষ্ঠানেও পুলিশ সদস্যদের গুলি ছোড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
অঙ্কিতা শর্মার ভিডিও নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাজ্যটির উপমুখ্যমন্ত্রী অরুণ সাও বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কর্মকর্তা আর কে বিজ বলেন, সামরিক কাজে ব্যবহৃত রাইফেল দিয়ে গুলি ছোড়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের কাজ কেবল নিরাপদ স্থানে এবং যথাযথ সতর্কতা মেনে করা উচিত। তার মতে, অস্ত্রপূজার মূল উদ্দেশ্য অস্ত্রের পূজা করা, গুলি ছোড়া নয়। এভাবে গুলি ছুড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আইপিএস কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, ছত্তিশগড়ে শস্ত্রপূজার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ‘আওয়াজি কার্তুস’ নামে পরিচিত ফাঁকা কার্তুস ব্যবহার করে গুলি ছোড়া হয়। তার দাবি, এ ধরনের অনুষ্ঠানে আসল গুলি ব্যবহার করা হয় না।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আকাশের দিকে ছোড়া গুলিও পরে মাটিতে ফিরে এসে আশপাশের মানুষের আহত হওয়ার কারণ হতে পারে।
অঙ্কিতা শর্মার গুলি ছোড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেজেএস ধিলোঁ অস্ত্র পরিচালনার নিরাপত্তা নিয়ে আটটি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন।
তার অভিযোগ, অঙ্কিতা শর্মা বিপজ্জনকভাবে অস্ত্র ব্যবহার করেছেন এবং অস্ত্র পরিচালনার নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। অস্ত্রটি বিভিন্ন দিকে তাক করা হচ্ছিল এবং পেছনে থাকা লোকজনকে দৃশ্যত আতঙ্কিত দেখাচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া অনুমোদনহীন পোশাকে ও অনুমোদনহীন কাজে সরকারি অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন ধিলোঁ। তার মতে, প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শেখানো অস্ত্র পরিচালনার মৌলিক নিয়মও যথাযথভাবে মানা হয়নি।
তিনি এ ঘটনাকে ‘দায়িত্বহীন কর্তৃত্বের কালো প্রদর্শনী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, এ ধরনের আচরণে নিজের ও অন্যের প্রাণহানি কিংবা আহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।
ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষ ঐতিহ্য অনুসরণের যুক্তিতে অঙ্কিতা শর্মার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্য পক্ষ অস্ত্র ব্যবহারের পদ্ধতি ও নিরাপত্তাবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়া এন কে গোস্বামী অঙ্কিতা শর্মাকে ‘আধুনিক মা দুর্গা’ বলে অভিহিত করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নারীর শক্তি, দায়িত্ব, নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের ওপর আস্থা রাখাও এর অংশ।
ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রপূজার অংশ হিসেবে গুলি ছোড়ার এই ঘটনা এখন নিরাপত্তাবিধি, সরকারি অস্ত্রের ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/এসকে



