
ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার দাবি, ভোটাধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দিল্লির ৫৩ বছর বয়সী দর্জি।
ভারতের ভোটার তালিকায় নিজেকে মৃত হিসেবে দেখতে পেয়েছেন দিল্লির ৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদ। অথচ তিনি জীবিত, নিয়মিত কাজ করছেন এবং বছরের পর বছর ভোট দিয়ে আসছেন। এখন ভোটার তালিকায় নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে তাকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কামতা প্রসাদের এই ভোগান্তির চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রায় ৪২ লাখ ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কামতা প্রসাদের নাম ভোটার তালিকায় ‘কান্তা প্রসাদ’ হিসেবে লেখা হয়েছে। নতুন তালিকায় তাকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করায় ভোটাধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও নিজের নাম ও পরিচয় সংশোধন করতে তাকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, পরিচয় যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে বাড়ছে তার ভোগান্তি।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ায় প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপিকে নির্বাচনে সুবিধা দিতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব, ঠিকানা যাচাই এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকের পক্ষে নিজেদের ভোটার পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি সরকারি রেশন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিতর্কের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাদ পড়া ভোটাররা আবেদন করে তালিকায় নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং সরকারি দপ্তরে বারবার যাতায়াতের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।
কামতা প্রসাদের ঘটনা তাই কেবল একজন জীবিত ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানোর ঘটনা নয়। এটি ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরটিভি/এসকে



