
ভারতের মন্দির বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হিন্দু ধর্মের দেবদেবীর মূর্তি, কারুকার্যময় স্থাপত্য আর নানা ধর্মীয় আচার। কিন্তু দেশটির রাজস্থানে এমন একটি মন্দির রয়েছে, যার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ২৫ হাজারেরও বেশি ইঁদুর। মন্দিরের মার্বেল পাথরের মেঝেতে অবাধে ঘুরে বেড়ায় এসব ইঁদুর। তাদের জন্য রাখা হয় দুধ ও মিষ্টি। শুধু তা-ই নয়, ভক্তদের কাছে এসব ইঁদুর অত্যন্ত পবিত্র। তাদের খাওয়া খাবার গ্রহণ করাকেও সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়।
মন্দিরটির নাম করনি মাতা মন্দির। ভারতের রাজস্থানের বিকানের শহরের কাছাকাছি দেশনোক এলাকায় অবস্থিত এটি। ১৪ শতকের হিন্দু সাধিকা করনি মাতার উদ্দেশে নির্মিত এই মন্দির। ভক্তদের বিশ্বাস, করনি মাতা দেবী দুর্গারই এক অবতার।
রাজস্থান পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মন্দির প্রাঙ্গণে ২৫ হাজারের বেশি ইঁদুরের বসবাস। স্থানীয় ভাষায় এসব ইঁদুরকে বলা হয় ‘কাবা’। মন্দিরের সর্বত্রই তাদের অবাধ বিচরণ। ভক্তরা নিয়মিত তাদের খাবার দেন এবং যত্ন নেন।
মন্দিরের ইঁদুরগুলোকে পবিত্র মনে করার পেছনে রয়েছে একটি হিন্দু ধর্মীয় কাহিনি। মন্দিরের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, করনি মাতার সৎপুত্র লক্ষ্মণ একবার পানিতে ডুবে মারা যান। এরপর করনি মাতা মৃত্যুর দেবতা যমের কাছে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান।
হিন্দু ধর্মীয় কিংবদন্তি মতে, পরে যম রাজি হন এবং করনি মাতার পুরুষ বংশধরদের ইঁদুর হিসেবে পুনর্জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই মন্দিরের ইঁদুরগুলোকে করনি মাতার বংশধর হিসেবে সম্মান করেন ভক্তরা।
ইঁদুরগুলোর জন্য মন্দিরে দুধ ও মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হয়। এসব ইঁদুরের খাওয়া বা মুখ দেওয়া খাবার গ্রহণ করাকে পুণ্যের কাজ এবং সৌভাগ্যের লক্ষণ বলে মনে করেন ভক্তরা।
হাজার হাজার ইঁদুরের মধ্যে সাদা ইঁদুরকে বিশেষভাবে শুভ মনে করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, সাদা ইঁদুরগুলো করনি মাতা ও তাঁর পুত্রদের প্রতীক। তাই মন্দিরে সাদা ইঁদুরের দেখা পাওয়া সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মন্দিরে ইঁদুর হত্যা বা তাদের কোনোভাবে আঘাত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাজস্থান পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অসাবধানতাবশত কোনো ইঁদুর মারা গেলে প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে সোনার তৈরি ইঁদুর প্রতিস্থাপনের প্রচলিত রীতি রয়েছে।
শুধু ইঁদুরের জন্যই নয়, স্থাপত্যের দিক থেকেও মন্দিরটি বেশ আকর্ষণীয়। ২০ শতকের শুরুর দিকে বিকানেরের মহারাজা গঙ্গা সিংয়ের উদ্যোগে মন্দিরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে এতে মার্বেল পাথর ও রুপার কারুকাজ যুক্ত করা হয়। ফলে মন্দিরটির প্রবেশপথ ও ভেতরের অংশ পেয়েছে বিশেষ সৌন্দর্য।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য আর হাজার হাজার ইঁদুরের সহাবস্থানের কারণে করনি মাতা মন্দির ভারতের অন্যতম বিস্ময়কর দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/জেএমএ

