ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

বাসার কাজে কয়েদিদের ব্যবহার করায় বন্দি নারী জেলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজস্থানে নিজের বাসার কাজ ও দুই সন্তানের দেখভালের জন্য কারাগার থেকে দুই নারী কয়েদিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক সাবেক নারী জেলার। চাকরি হারানোর পাশাপাশি এখন তাকে বন্দি থাকতে হচ্ছে সেই কারাগারেই। যেখানে তিনি একসময় দায়িত্ব পালন করতেন।

অভিযুক্ত ওই নারীর নাম দিব্যা চৌধুরী। ৩৭ বছর বয়সী দিব্যা রাজস্থানের আজমির কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক জেলার।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজমির সেন্ট্রাল জেল থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন দিব্যা। তার স্বামীও রাজস্থানের কোটা জেলায় কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত।

অফিসের দায়িত্ব ও সংসার সামলাতে গিয়ে কারাগারের অধীন মহিলা সংশোধনাগারের কয়েদিদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন তিনি। গত ১২ জুলাই দুই নারী বন্দিকে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিব্যা। তাদের একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কিরণ ওরফে সেঠা। অন্যজন বিচারাধীন বন্দি সানা।

কারাগারের প্রধান ফটকে দায়িত্বরত অন্য কর্মীরা এতে বাধা দেন। তবে দিব্যা ও তার সহকর্মী কনস্টেবল সোনিয়া চৌধুরী তাদের বাধা উপেক্ষা করে দুই বন্দিকে নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ওই দুই বন্দিকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। রাজস্থান কারাবিধি-২০২২ অনুযায়ী, বন্দিদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ঘটনার পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দিব্যা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট আজমিরের সিভিল লাইন্স থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন কারাগারের এক প্রহরী। মামলা হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন দিব্যা।

পরে তাকে গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করে আজমির পুলিশ। তদন্তে সাইবার সেলের সদস্যরাও যুক্ত হন। তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন।

গত ৬ অক্টোবর রাজস্থানের কোটা জেলায় দিব্যার স্বামীর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে দিব্যা দাবি করেন, তিনি ওপেন জেল থেকে বন্দি আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, ওপেন জেলের বন্দিদের নির্দিষ্ট শর্তে বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে তার সহকর্মী সোনিয়া ভুল করে সাধারণ কারাগারের দুই বন্দিকে নিয়ে আসেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে দিব্যার এই বক্তব্যের বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চালক-যাত্রীদের সহায়তায় বাসেই নারীর সন্তান প্রসব
ভারতের আসামে চলন্ত বাসের মধ্যেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী। গুয়াহাটি থেকে দিব্রুগড়গামী একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রসবকালীন পরিস্থিতিতে চালক, নারী যাত্রী ও বাসের স্টাফরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
চালক-যাত্রীদের সহায়তায় বাসেই নারীর সন্তান প্রসব
এআইয়ের সহায়তায় মদ তৈরি, প্রাণ গেল ১৩ জনের
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় মদপানে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় বাড়িতে তৈরি করা মদ পান করেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের তৈরি মদের সঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যুর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন তিনি। সেখান থেকে পাওয়া অসম্পূর্ণ তথ্য কাজে লাগিয়ে পরে ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের সন্ধান শুরু করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এরপর ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামে একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অজয়। সেখান থেকে একটি রাসায়নিক সংগ্রহ করেন তিনি। পুলিশের অভিযোগ, ওই রাসায়নিক ব্যবহার করে অজয় ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে মদ তৈরি শুরু করেন। ১ অক্টোবর রাসায়নিক হাতে পাওয়ার পর পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি করা তরল ভরে বিক্রি শুরু করেন তারা। এমনকি আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে গ্রামাঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। এতে ক্রেতাদের পক্ষে আসল ও নকল মদের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। রাসায়নিক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দোরের আরেক বাসিন্দা আমন কাসলিওয়ালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন মদের নমুনাও পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আরটিভি/এসআর  
এআইয়ের সহায়তায় মদ তৈরি, প্রাণ গেল ১৩ জনের
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ যাতে ভারতে না লাগে, সেই চেষ্টা করছে সরকার: মোদি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানি, সারের সংকট রয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে সরকার বিরোধীরা ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের বনাসকাঁঠায় একটি জনসভায় এমন মন্তব্য করেছেন। নরেন্দ্র মোদি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ যাতে ভারতে না লাগে, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে তার সরকার। কিন্তু বিরোধীরা চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’  এদিকে মোদির অভিযোগ, তার সরকারের দুর্নাম করার জন্য বিরোধীরা উঠেপড়ে লেগেছে। তার ভাষ্য, দেশ বিপদে পড়লে কিছু মানুষ আনন্দ করেন। তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো ইরানের যুদ্ধ। একসঙ্গে মিলে সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। কিন্তু এই সমস্ত লোকজন ভুয়া খবর ছড়াতে ব্যস্ত। কৃষকদের সার নিয়ে ভুল বোঝানো হচ্ছে। আসলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল ওদের। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসআর  
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ যাতে ভারতে না লাগে, সেই চেষ্টা করছে সরকার: মোদি
ভারতের নিষিদ্ধ পল্লি থেকে ৬ বাংলাদেশি তরুণী উদ্ধার
ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে ভারতে পাচার করার পর পুনের কুখ্যাত যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের বুধবার পেথ এলাকার একাধিক নিষিদ্ধ পল্লিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।  এ ঘটনায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে চার দালালের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন-১) ঋষিকেশ রাওয়ালের নির্দেশে ফারাসখানা, বিশ্রামবাগ এবং খাদক থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ দল গঠন করা হয়। দলটি বুধবার ভোরে বুধবার পেথ এলাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি যৌনপল্লিতে একযোগে ঝটিকা অভিযান চালায় এবং বন্দিদশা থেকে এই ছয় নারীকে উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানের পর ফারাসখানা থানা-পুলিশ মানবপাচার চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যে চক্রের দুই দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চিহ্নিত অন্য দুই অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় চার মাস আগে ভালো বেতনে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে আনা হয়। ভুক্তভোগীদের কারও কাছেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র ছিল না। মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন আধুনিক শহরে আকর্ষণীয় চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের পুনেতে এনে নিষিদ্ধ পল্লির সর্দারনিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারী পাচারের এই চক্রটি বুধবার পেথ এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকার একটি যৌনপল্লি থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ। তাদেরও একই কায়দায় লোভনীয় চাকরির ফাঁদে ফেলে সীমান্ত পার করে এনে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয়েছিল। আরটিভি/এসআর  
ভারতের নিষিদ্ধ পল্লি থেকে ৬ বাংলাদেশি তরুণী উদ্ধার
নদীতে ডুব দিয়ে পানি খাওয়ার পর যমুনাকে ‘দূষণমুক্ত’ বললেন বিজেপি নেতা
নদীর দূষণ নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক চলমান বিতর্কের মধ্যে এবার রাজধানী নয়াদিল্লির যমুনা নদীতে ডুব দিয়ে পানি পরিষ্কার বলে দাবি করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ‘তিনি শুধু ডুবই দেননি, নদীর পানি হাতে নিয়ে পানও করেছেন’। তার দাবি, গত দেড় বছরে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে যমুনার দূষণ প্রায় অর্ধেক কমেছে। তবে পরিবেশগত তথ্য বলছে, নদীর কয়েকটি অংশে দূষণের মাত্রা এখনো নির্ধারিত সীমার অনেক ওপরে। বৃহস্পতিবার দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে যমুনায় ডুব দেন উত্তর-পূর্ব দিল্লির এই সংসদ সদস্য। মনোজ তিওয়ারি বলেন, নদীতে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে পানির মানের উন্নতি হয়েছে। এখানে কুমির থাকতে পারে, তবে কুমির শুধু পরিষ্কার পানিতেই থাকে। নদী পরিষ্কারে বিজেপি সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আম আদমি পার্টির (এএপি) বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। বলেন, যমুনার পানি এখন ছটপূজার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব। এদিকে বিজেপি দিল্লি শাখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছে, তাদের সরকার দুই বছরে যমুনা পরিষ্কারে যে কাজ করেছে, কংগ্রেস ও এএপি ২৭ বছরেও তা করতে পারেনি। একই সঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনায় ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানায় দলটি। আরটিভি/এসআর
নদীতে ডুব দিয়ে পানি খাওয়ার পর যমুনাকে ‘দূষণমুক্ত’ বললেন বিজেপি নেতা