ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মাদক সম্রাটের মৃত্যুতে মেক্সিকোজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা, নিহত ২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোতে কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও ‘এল মেঞ্চো’ ওসেগেরার মৃত্যুর পর দেশটিতে সহিংসতার ঢেউ শুরু হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদার করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ সহিংসতা শুরু হয়। এদিকে দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন, সহিংসতা শুরুর পর থেকে জালিস্কো রাজ্যে মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। খবর বিবিসি।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্ডো ট্রেভিলা বলেছেন, সোমবার পশ্চিম মেক্সিকোতে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ সেনা পাঠানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, রোববার থেকে মোট ৯ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

মেক্সিকোর ভয়ঙ্কর জালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) মাদক চক্রের হোতা, ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত নেমিসিও অসিগুয়েরা স্যাভাতেস রোববার সামরিক অভিযানে নিহত হয়। তারপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার সমর্থক বলে সন্দেহ করা বন্দুকধারীরা বেশ কয়েকটি রাজ্যের মহাসড়কগুলো অবরোধ করে, যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) মেক্সিকোর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধী সংগঠনগুলির মধ্যে একটি এবং এর নেতা ছিলেন দেশের ওই মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এল মেনচোর গ্রেপ্তারের তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার (১১.১ মিলিয়ন পাউন্ড) পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

প্রতিরক্ষা সচিব ট্রেভিলার মতে, এল মেনচো তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে শনাক্ত করে এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। গ্রেপ্তারের সময় মাদক সম্রাট এল মেনচো তার দেহরক্ষীদের সঙ্গে এবং তাকে ধরতে মোতায়েন করা সামরিক কমান্ডোদের সঙ্গে তীব্র গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাপালপা শহর থেকে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অভিযানে এল মেনচোর অন্তত ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন এবং মেক্সিকান সামরিক বাহিনীর তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা সচিব ওমর গার্সিয়া হারফুচ বলেছেন, এল মেনচোর মৃত্যুর পর শুরু হওয়া সহিংসতায় একজন কারারক্ষী, রাজ্য প্রসিকিউটর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা এবং তার অপরাধী সংগঠনের অন্তত ৩০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম সেনাবাহিনীর এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন, যার ফলে এল মেনচোর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার দেশজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শেইনবাউম বলেন, ‘এখানে শান্তি রয়েছে, সরকার রয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে এবং সবকিছু সমন্বয়ের মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।’

এদিকে এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার কার্টেলের সদস্যরা সিজেজিএন সক্রিয় এমন বহু শহর ও নগরে হামলা শুরু করে। কিছু শহরে তারা টারম্যাকে কাঁটা এবং পেরেক ছুঁড়ে রাস্তা অবরোধ করে। অন্য শহরে তারা বাস এবং অন্যান্য যানবাহন দখল করে তারপর রাস্তার মাঝখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। কার্টেল সদস্যদের দ্বারা আগুন লাগানোর পর কয়েক ডজন ব্যাংক এবং স্থানীয় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এবং বিবিসি ভেরিফাই দ্বারা প্রমাণিত ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, জালিস্কো রাজ্যের পুয়ের্তো ভাল্লার্তা শহরে সামরিক হেলিকপ্টার উড়ে যেতে এবং ভবনগুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে।

রোববার অনেক শহরে রাস্তাঘাট জনশূন্য ছিল। কাছের একটি রেস্তোরাঁর সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে, গাড়ি ন্যাশনাল গার্ডের একটি ট্রাকে ধাক্কা দিচ্ছে এবং কার্টেল সদস্যরা গুলি চালাচ্ছে। ন্যাশনাল গার্ড ঘটনা সম্পর্কে কোনো বিবরণ প্রকাশ করেনি।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এল মেনচোর গ্রেপ্তারের অভিযানটি মেক্সিকান সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, যার সমর্থন ছিল দেশটির ন্যাশনাল গার্ড এবং বিমান বাহিনী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহিত তথ্য মাদক সম্রাটকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছে।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার তুমুল বাগবিতণ্ডা, ‘এটা আমেরিকা’ বলে চিৎকার
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার প্রতিনিধিদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়েছে। 
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার তুমুল বাগবিতণ্ডা, ‘এটা আমেরিকা’ বলে চিৎকার
কিউবায় পরিবর্তন আনতে সিআইএর সঙ্গে কাজের আহ্বান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
কিউবার কমিউনিস্ট সরকারে পরিবর্তন আনতে দেশটির নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সঙ্গে গোপনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
কিউবায় পরিবর্তন আনতে সিআইএর সঙ্গে কাজের আহ্বান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
কানাডা ছাড়তে নারাজ আলবার্টার ৭৭ শতাংশ ভোটার
কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন দেশটির তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টার অধিকাংশ ভোটার।
কানাডা ছাড়তে নারাজ আলবার্টার ৭৭ শতাংশ ভোটার
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে ৪ জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ১৯
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে ৪ জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ১৯
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি হলো আলবার্টার সেনাঘাঁটি। যেখানে আগুনে লেগে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন।  স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৪টার দিকে ঘাঁটি থেকে তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আগুন লাগলেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলা, সড়ক খোলা রাখা এবং ওয়াইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুব বেশি প্রয়োজন না হলে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি সেখানে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেননি ডেভিড ম্যাকগুইন্টি।  তিনি শুধু বলেছেন, আগুনটি সক্রিয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উচ্চ বাতাসের কারণে আগুনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আলবার্টার প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইনরাইট শহর। সেখানকার সেনাঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। এছাড়া এডমন্ডের আর্মি ফিল্ড ফোর্স ইউনিটের ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গুরুতর ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও জানাননি কীভাবে আগুন লেগেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন