
বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ হওয়া একটি চিকিৎসা পরিবহন বিমানের সন্ধানে দুই দিন অভিযান চালানোর পর তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। বিমানটিতে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড এ তথ্য জানায়। এর আগে ম্যাসাচুসেটসের নান্টাকেট দ্বীপের উপকূলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। নান্টাকেট দ্বীপটি কেপ কড থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।
উড়োজাহাজটির গতিবিধির তথ্য বিশ্লেষণ করে ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানায়, বিমানটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এরপর মাত্র দুই মিনিটে প্রায় ১৩ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন জানায়, শনিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের কিছু পর বারমুডার এল এফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করে। এর গন্তব্য ছিল বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। স্থানীয় সময় রাত ১টা ১২ মিনিটের দিকে সেখানে অবতরণের কথা ছিল।
তবে ভোরে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে বিমানটি বোস্টনে না পৌঁছালে বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে জানায়।
কোস্ট গার্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ লেক বলেন, নিখোঁজ বিমানটির সন্ধান স্থগিত করা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং উদ্ধার অভিযানে সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নিহতদের নিকটাত্মীয়দের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
কানাডাভিত্তিক চিকিৎসা পরিবহন প্রতিষ্ঠান ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে জানায়, বিমানে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমানে তাদের চার কর্মী, একজন রোগী এবং রোগীর সঙ্গে থাকা একজন স্বজন ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির উড্ডয়ন পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ক্ল্যারেন্স টগারেটজ কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসিকে জানান, চার সদস্যের বিমানকর্মী দলটি বারমুডায় গিয়েছিল একজন রোগী ও তার স্বজনকে নিয়ে আসার জন্য।
তিনি জানান, দুই পাইলট ও দুই চিকিৎসাকর্মীই কানাডার নাগরিক ছিলেন। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বাকি দুজন বারমুডার নাগরিক।
কোস্ট গার্ড জানায়, দুই দিনে তারা ও সহযোগী সংস্থাগুলো প্রায় ৪ হাজার ৪৪৫ মাইল এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে। অভিযানে আকাশপথে নজরদারি করা বিমান, হেলিকপ্টার, নৌযান ও বিশেষ টহলজাহাজ ব্যবহার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জন ম্যাকটেমনি জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) পর্যন্ত আবহাওয়া অনুসন্ধান অভিযানের জন্য অনুকূল ছিল। তবে নিখোঁজ বিমানের সম্ভাব্য অবস্থান খুঁজে বের করার এলাকা ছিল অনেক বড় ও কঠিন।
লাইভএটিসি ডটনেটের ধারণ করা বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণকক্ষের কথোপকথনে বিমানটির সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সেখানে বোস্টনগামী চিকিৎসা পরিবহন বিমানটির কোনো ধরনের সমস্যার কথা নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানানো হয়েছিল।
নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাইলটকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি দিকনির্দেশনা ছাড়া এগিয়ে আসছেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন কি না। এরপর বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিমানের কোনো জবাব শোনা যায়নি।
পরে কাছাকাছি থাকা আরেকটি বিমানকে নিখোঁজ চিকিৎসা পরিবহন বিমানটির দিকে নজর দিতে এবং বেতারে যোগাযোগের চেষ্টা করতে বলা হয়।
তদন্তে যুক্ত একাধিক সংস্থা
বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর এখন দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার কাজ শুরু হবে। ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড, কানাডার পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উদ্ধার ও তদন্তকাজে সহযোগিতা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড কোলকো সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান, দুর্ঘটনার পর বিমানের জরুরি সংকেত প্রেরণকারী যন্ত্র থেকেও সংকেত পাওয়া যেতে পারে। বিমানটি সমুদ্রে ডুবে গেলেও ওই যন্ত্র থেকে সংকেত অনুসন্ধানকারীদের বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
কানাডার পরিবহনমন্ত্রী স্টিভেন ম্যাকিনন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিমানে থাকা ব্যক্তিদের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বারমুডার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বার্টও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এবং বিমানে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন
আরটিভি/জেএমএ




