ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

কানাডা ছাড়তে নারাজ আলবার্টার ৭৭ শতাংশ ভোটার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
আলবার্টার ভোটারদের বিক্ষোভ । ছবি: সংগৃহীত

কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন দেশটির তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টার অধিকাংশ ভোটার। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭৭ শতাংশই কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটার বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত আলবার্টার ইতিহাসে প্রথম বিচ্ছিন্নতা-বিষয়ক গণভোটের প্রাথমিক ফল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশ করা হয়। এতে ১০ লাখের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে। এই ভোটে সরাসরি স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং বিচ্ছিন্নতার পক্ষে রায় এলে কানাডা থেকে আলবার্টাকে আলাদা করার বিষয়ে ভবিষ্যতে আরেকটি গণভোটের পথ তৈরি হতো।

এ ফলকে স্বাগত জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছেন, আলবার্টার বাসিন্দারা ঐক্যের পক্ষে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তারা একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এবং পরস্পরের যত্ন নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

তবে গণভোটে বিচ্ছিন্নতার পক্ষে প্রচার চালানো আলবার্টা প্রসপারিটি প্রকল্পের অন্যতম নেতা জেফরি রাথ জানিয়েছেন, ফলাফল যা-ই হোক, স্বাধীন আলবার্টার জন্য তাদের প্রচার অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এই লড়াই থেকে তারা অনেক শিক্ষা পেয়েছেন।

আলবার্টার রক্ষণশীলপন্থী মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ নিজেও স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভক্তি ও মতবিরোধের অবসান ঘটাতেই তিনি গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। তিনি আগে বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ফল এলে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নটি বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে আলবার্টায়। প্রদেশটির তেলশিল্প পরিচালনা ও উৎপাদনসংক্রান্ত নীতির প্রতি অসন্তোষ থেকেই বিচ্ছিন্নতার দাবিতে গতি এসেছে। স্মিথ অভিযোগ করেছেন, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জলবায়ুবিষয়ক নীতি এগিয়ে নিতে আলবার্টার তেল উৎপাদন কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার মতে, ট্রুডোর নীতিই বিচ্ছিন্নতার দাবিকে জোরালো করেছে।

আলবার্টার স্বাধীনতার দাবির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরও আগ্রহ দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আলবার্টাকে ওয়াশিংটনের স্বাভাবিক অংশীদার বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ও ট্রাম্পের সমর্থক ইলন মাস্কও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আলবার্টার আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত।

গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী কার্নি আলবার্টা ও কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। এ লক্ষ্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্মিথের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন একটি পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে আলবার্টার তেল বিদেশের বাজারে আরও বেশি রপ্তানি করা সম্ভব হবে। ট্রুডোর শাসনামলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে ৪ জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ১৯
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে ৪ জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ১৯
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি হলো আলবার্টার সেনাঘাঁটি। যেখানে আগুনে লেগে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন।  স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৪টার দিকে ঘাঁটি থেকে তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আগুন লাগলেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলা, সড়ক খোলা রাখা এবং ওয়াইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুব বেশি প্রয়োজন না হলে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি সেখানে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেননি ডেভিড ম্যাকগুইন্টি।  তিনি শুধু বলেছেন, আগুনটি সক্রিয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উচ্চ বাতাসের কারণে আগুনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আলবার্টার প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইনরাইট শহর। সেখানকার সেনাঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। এছাড়া এডমন্ডের আর্মি ফিল্ড ফোর্স ইউনিটের ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গুরুতর ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও জানাননি কীভাবে আগুন লেগেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আট দিনে ৭৪৬টি আফটারশক
পানামায় গত সপ্তাহে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমিকম্পের কারণে পরিবর্তন ঘটেছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। 
পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আট দিনে ৭৪৬টি আফটারশক
কানাডায় স্কুলে ৮ হত্যায় সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার নারী
কানাডায় স্কুলে হামলা চালিয়ে আটজনকে হত্যার ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কানাডায় স্কুলে ৮ হত্যায় সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার নারী
বারমুডা থেকে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ, বিমানের ৬ জনই মৃত বলে ধারণা
বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ হওয়া একটি চিকিৎসা পরিবহন বিমানের সন্ধানে দুই দিন অভিযান চালানোর পর তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।
বারমুডা থেকে উড্ডয়নের পর নিখোঁজ, বিমানের ৬ জনই মৃত বলে ধারণা
আরও পড়ুন
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুনে ৪ জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ১৯
বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চার প্রতিষ্ঠানকে ৩৯০ কোটি টাকা দিচ্ছে কানাডা
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সাক্ষাৎ