
বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে সোনার দাম। সপ্তাহের শুরুতে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর কম দামে সোনা কেনার প্রবণতা বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে বেড়েছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ইল্ড বৃদ্ধির চাপে বুধবার সোনার দাম দুই মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
এদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৬ দশমিক ৩ ডলারে স্থির হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কম দামে কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও বাজারে চলছে আলোচনা।
স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও'কনেল বলেন, ৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি সোনার একটি নিম্নস্তর তৈরি হওয়ায় কম দামে কেনার প্রবণতা বেড়েছে। তবে ফেডের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং সরকারি খাতের অব্যাহত নিট সোনা কেনার প্রত্যাশা ইতোমধ্যে বাজারদরে প্রতিফলিত হয়েছে। অপ্রত্যাশিত বড় কোনো ঘটনা না ঘটলে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা কম বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইল্ড কমে আসে। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ বলে মনে করছেন ট্রেডাররা। এ ছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ৮৪ শতাংশ ট্রেডার।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, সোনা থেকে সুদ বা নিয়মিত মুনাফা পাওয়া যায় না। ফলে উচ্চ মুনাফা দিতে সক্ষম সম্পদের তুলনায় সোনা বিনিয়োগ কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান ট্যান বলেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশ সোনার দামে পরবর্তী বড় পরিবর্তনের অনুঘটক হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে এবং ফেডকে দ্রুত সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করলে স্পট মার্কেটে সোনার দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনমূল্য পরীক্ষা করতে পারে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লেও চলতি সপ্তাহে ভারতে এর চাহিদা ছিল মন্থর। অন্যদিকে, ছুটির কারণে লেনদেনের সময় কম থাকায় বিশ্বের শীর্ষ সোনা ভোক্তা চীনের বাজারেও ছিল নিরুত্তাপ পরিস্থিতি।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৬৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৬ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। তবে সপ্তাহজুড়ে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল।
বিশ্ববাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গত ৯ অক্টোবর ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বাজুসের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা এবং ডলারের গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
আরটিভি/এসকে




