
বিশ্বখ্যাত জাদুশিল্পী হ্যারি হুডিনির মৃত্যুর ১০০ বছর পরও প্রকৃত কারণ নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। পেটের ওপর ঘুষির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছিল বলে প্রচলিত ধারণা থাকলেও নতুন এক বইয়ে দাবি করা হয়েছে, অন্ত্রের জটিলতা ও গোপন অস্ত্রোপচারই তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
১৮৭৪ সালে হাঙ্গেরিতে এরিক উইজের জন্ম। চার বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। কৈশোরে ছোটখাটো মঞ্চে জাদু দেখানো শুরু করেন। পরে উনিশ শতকের ফরাসি জাদুশিল্পী জ্যঁ-ইউজিন রবার্ট-উদাঁর নাম অনুসরণ করে নিজের নাম রাখেন হ্যারি হুডিনি।
হাতকড়া, শিকল ও বিভিন্ন ধরনের বন্ধন থেকে অবিশ্বাস্য কৌশলে মুক্ত হওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পান তিনি। কখনো উল্টো করে ঝুলন্ত অবস্থায় স্ট্রেইটজ্যাকেট থেকে বেরিয়ে আসতেন, কখনো পানিভর্তি ট্যাংকে বন্দি থেকেও বেরিয়ে আসতেন। তার এসব বিপজ্জনক প্রদর্শনী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মৃত স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি করা ভণ্ড আধ্যাত্মিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রচার শুরু করেন হুডিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের কৌশল ও প্রতারণা প্রকাশ করে দেন তিনি।
১৯২৬ সালে ৫২ বছর বয়সে মারা যান হুডিনি। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী তার পেটের ওপর ঘুষি মারার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর আগে থেকেই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সমস্যা ছিল বলে ধারণা করা হয়। ঘুষির আঘাতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
তবে শল্যচিকিৎসক ও চিকিৎসা গবেষক ল্যারিয়ান গিলেসপির লেখা হুডিনি: দ্য ম্যান হু ডাইড টোয়াইস বইয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তার মতে, অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়া এবং শেষ মুহূর্তে অস্ত্রোপচারের বিষয়টি যথাযথভাবে নথিভুক্ত না হওয়ার কারণে হুডিনির মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মৃত্যুসনদেও অসংগতি ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
গিলেসপির ধারণা, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর জন্য বিমার অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার স্বার্থে হুডিনির ঘুষির আঘাতের ঘটনাটি গুরুত্ব পেয়েছিল। তার দাবি, হুডিনি ৩১ অক্টোবর নয়, ৩০ অক্টোবর মারা গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব দাবি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
হুডিনির মৃত্যুর পরও তার স্ত্রী বেসের সঙ্গে করা একটি প্রতিশ্রুতিকে ঘিরে রহস্য টিকে আছে। মৃত্যুর পর সম্ভব হলে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছিলেন হুডিনি। তার মৃত্যুর পর টানা ১০ বছর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাদের বাড়িতে আত্মার সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে বিশেষ আয়োজন করা হয়।
আজও প্রতি হ্যালোইনে হুডিনির ভক্তরা তার সঙ্গে যোগাযোগের আশায় এমন আয়োজন করেন। কীভাবে তিনি অসম্ভব সব বন্ধন থেকে মুক্ত হতেন, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল কিংবা মৃত্যুর পর কোনো অস্তিত্ব থাকে কি না— এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। তবে দারিদ্র্য থেকে বিশ্বখ্যাতি অর্জন এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রতীক হিসেবে হুডিনির জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। সূত্র: ইয়াহু
আরটিভি/এমএইচজে



-1793068515-412045_1793068538.jpg)
-1792929354-411796_1792929425.jpg)