ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানে ব্যাপক সংঘর্ষ, ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ফাইল ছবি

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান সামরিক অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। এছাড়া, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তান জুড়ে সমন্বিত ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর সেনা অভিযান শুরু হয়। ওই দিন একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ওইদিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত তিন দিনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বেলুচিস্তানে।

হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। এই অভিযানে প্রথম ধাপে ৯২ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন।

আরও পড়ুন

দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।

আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছে। তবে, তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য সেদিনই নিহত হন।

পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়, যাতে হামলার পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী ও মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা যায়।

আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণ মিলেছে যে এসব হামলা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতারা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ঘটনার পুরো সময় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কাজ করা অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। গত বছর সংগঠনটি ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান সরকারের দাবি, বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেয় ভারত। তাই এই সংগঠনটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে পাকিস্তান সরকার।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আফগানিস্তানে আবারও হামলা চালাল পাকিস্তান
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আবারও বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।
আফগানিস্তানে আবারও হামলা চালাল পাকিস্তান
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। 
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
চেয়ারের চেয়েও গাড়ি সরু, ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব শোবার ঘরে
গাড়িটি চার চাকার। তবে চওড়ায় মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার বা ১ ফুট ৮ ইঞ্চির মতো। আমরা ঘরে বা কার্যালয়ে যে ধরনের প্লাস্টিক চেয়ার ব্যবহার করি, গাড়িটি তার চেয়েও সরু।
চেয়ারের চেয়েও গাড়ি সরু, ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব শোবার ঘরে
জামায়াতকে ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ' স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের
পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিত রাখতে জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে অনুরোধ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।  সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদমুখী মার্চ নিয়ে জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাকে ফোন করেন শেহবাজ। এ সময় তিনি জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। তবে লং মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির। জবাবে হাফিজ নাঈম বলেন, সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বা সংঘাতের মুখে ফেলা জামায়াতের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রতিবাদ করার অধিকার সরকারকে সম্মান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের অনুরোধে মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম বলছে, পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে হাফিজ নাঈমের নেতৃত্বে জামায়াতের ট্রেন মার্চ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ট্রেনটি চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছেছে। তবে এই বিলম্বও সমর্থকদের মার্চকে স্বাগত জানাতে আসা ঠেকাতে পারেনি। হাফিজ নাঈম বলেন, ‘যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা মুলতানে আমাদের স্বাগত জানাতে কত মানুষ বেরিয়ে এসেছে, তা দেখুক।’ বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদেও একইভাবে মানুষ জামায়াতের এই মার্চকে স্বাগত জানাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন এই মার্চ দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জাবে যাবে বলেও জানান তিনি। সরকারের উদ্দেশে পাকিস্তান জামায়াতের আমির বলেন, রাস্তায় কনটেইনার ফেলে, বাধা দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জনগণকে স্বস্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি। জামায়াতের আমির বলেন, তারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপের উদাহরণ হিসেবে গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি। হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আটা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে। চিনি আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও সমালোচনা করেন তিনি। স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি নিয়েও জামায়াতের আগের আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওই ক্ষেত্রেও দলটি জনগণের স্বার্থ তুলে ধরেছিল বলে দাবি করেন জামায়াতের আমির। সংবাদমাধ্যম বলছে, গত রোববার পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে করাচি থেকে লং মার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। পরে ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই আন্দোলন ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দলটি দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও করেছে। এর আগে দাবিগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনাও করেছে জামায়াত। এদিকে মুলতানে পৌঁছানোর পর জামায়াতের এই বহর লাহোরের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর লং মার্চের শেষ ধাপে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আরটিভি/এসআর
জামায়াতকে ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ' স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের
তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানি জামায়াতের ট্রেনমার্চ
পেট্রোলিয়াম লেভি বা জ্বালানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক বাতিল করা না হলে চলমান বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানি জামায়াতের ট্রেনমার্চ
আরও পড়ুন
আফগানিস্তানে আবারও হামলা চালাল পাকিস্তান
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
জামায়াতকে ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ' স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের
তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানি জামায়াতের ট্রেনমার্চ