
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে জনপ্রিয় এক টিকটক তারকার মেহেদি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে। ভক্তদের উপচে পড়া ভীড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও অন্তত ১৩ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে, হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলেও দাবি করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে শিয়ালকোটের একটি ক্রিকেট মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর জিও নিউজের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই টিকটকারের নাম মুহাম্মদ আনসার জাট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘মিস্টার পাতলো’ নামে পরিচিত।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার রাতে শিয়ালকোটের ডাসকা রোডের ফারাজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য আয়োজকেরা স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দিলে হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে অনেকেই মাটিতে পড়ে যান এবং পদদলিত হন।
শিয়ালকোট পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী মুহাম্মদ আকিলের অবস্থা গুরুতর ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্ধার অভিযানে চারটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়। আহত ব্যক্তিদের শিয়ালকোটের আল্লামা ইকবাল মেমোরিয়াল টিচিং হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশিরভাগ আহত ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিদের বয়স ২২ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। তারা নারোওয়াল, গুজরানওয়ালা, শেখুপুরা, খানেওয়াল, ওকারা, শিয়ালকোট, গুজরাট ও বাহাওয়ালপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
তবে স্থানীয় দুই বাসিন্দা মুহাম্মদ আসিফ ও আমির আলীর দাবি, পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উপস্থিত লোকজন আহত কয়েকজনকে নিজেদের উদ্যোগে আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান।
শিয়ালকোটের জেলা জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী নাভিদ ইকবাল বলেন, ক্রিকেট মাঠে এত বড় জমায়েতের আয়োজন সম্পর্কে উদ্ধারকারী সংস্থাকে আগাম জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনার পর শিয়ালকোটের জেলা পুলিশপ্রধান (ডিপিও) দোস্ত মুহাম্মদ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও এলিট ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার নির্দেশে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হয়।
এ সময় আয়োজকদের সমালোচনা করেন জেলা পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিপিও আরও বলেন, নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। দুর্ঘটনার সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএইচএম


