ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনের গ্রিন কার্ডে স্পনসর হতে আয় কত প্রয়োজন, জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিদেশে থাকা স্বজনদের গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিতে হয়। এই নথির মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে অঙ্গীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী প্রয়োজন হলে তার আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে এই আর্থিক সহায়তার নথি প্রয়োজন হয়। কিছু নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, যদি আবেদনকারীর হয়ে কোনো মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকত্বধারী আত্মীয় আবেদন করেন।

মূল বিষয় হলো, স্পনসরের আয় তার পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যার জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হবে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই আয়সীমা প্রযোজ্য নয়। স্পনসরের পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।

২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের পরিবারের দারিদ্র্যসীমা ২১ হাজার ৬৪০ ডলার। এর ১২৫ শতাংশ হলো ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ২৭ হাজার ৩২০ ডলার এবং ১২৫ শতাংশের হিসাব দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার এবং ১২৫ শতাংশ হলো ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়ে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্পনসরের নিজের আয় যদি তার নির্ধারিত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা পূরণ করে, তাহলে অন্য পরিবারের সদস্যদের আয় যোগ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসাবের বাইরে থাকবে। বরং আই-৮৬৪ ফর্মে স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেই প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা ঠিক করা হয়।

পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের সময় স্পনসরের স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট সন্তান, আয়কর রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো ব্যক্তি, যে অভিবাসীকে স্পনসর করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য অভিবাসী আবেদনকারীকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। কোনো অ-নির্ভরশীল আত্মীয় একই বাড়িতে থাকলে এবং তার আয় ব্যবহার করতে চাইলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফর্ম আই-৮৬৪এ প্রয়োজন হতে পারে।

যদি স্পনসরের নিজের আয় প্রয়োজনীয় সীমায় না পৌঁছায়, তখন আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। একজন যোগ্য যৌথ স্পনসর বা জয়েন্ট স্পনসর অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারেন। অথবা একই পরিবারের যোগ্য সদস্যের আয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফর্ম ও আর্থিক প্রমাণ জমা দিতে হয়।

আয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সম্পদও ব্যবহার করা যায়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে সঞ্চয়, শেয়ার, বন্ড বা নির্দিষ্ট সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব ও প্রমাণের নিয়ম আছে। সাধারণভাবে সম্পদের নিট মূল্য এবং আয়ের ঘাটতির অনুপাত নির্দিষ্ট নিয়মে বিবেচনা করা হয়।

আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সাম্প্রতিক বেতন স্লিপ, চাকরির প্রমাণ, নিয়োগকর্তার চিঠি, আয়কর-সংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। কোনো স্পনসরের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকলে অতিরিক্ত আয় বা সম্পদের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।

স্পনসর হওয়ার জন্য শুধু পর্যাপ্ত আয় থাকাই যথেষ্ট নয়। সাধারণভাবে আর্থিক স্পনসরকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়। পাশাপাশি তার যুক্তরাষ্ট্রে ডমিসাইল বা প্রধান বসবাসের ভিত্তি থাকতে হয়।

ফর্ম আই-৮৬৪ স্বাক্ষর করার পর এটি আইনগতভাবে কার্যকর একটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। সাধারণভাবে স্পনসরের আর্থিক দায়িত্ব তখন পর্যন্ত চলতে পারে, যতক্ষণ না স্পনসর করা ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন, সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্ম-ত্রৈমাসিক অর্জন করেন বা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো সমাপ্তির শর্ত পূরণ হয়।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউইয়র্কে একাধিক পদে চাকরির সুযোগ
নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরি, পাবলিক স্কুল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পদে এখনো আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। 
নিউইয়র্কে একাধিক পদে চাকরির সুযোগ
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য আমি, দেবে কিনা জানি না: ট্রাম্প
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাকে এ পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। তবে কমিটি তার মতো ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করে না এমন একটি ধারণার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করবে। এর আগে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা আমি জানি না। আমার মতো মানুষদের এটি না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের একটা পরিচিতি বা খ্যাতি রয়েছে। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এবারও নিজের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সমাধান বা হস্তক্ষেপে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে এসব সংঘাতের প্রকৃতি এবং সেগুলো সমাধানে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এখন সেই সময়টি এসেছে।’ গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর প্রসঙ্গও টানেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, মাচাদোর কাছ থেকে পরোক্ষভাবে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন। ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মাচাদো চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। তিনি এটি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে তুলে দেন। তবে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরস্কার একবার ঘোষণার পর তা অন্য কাউকে হস্তান্তর, ভাগ বা বাতিল করা যায় না। এদিকে কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেছেন। তবে এসব মনোনয়ন স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই, কারণ নোবেল কমিটি মনোনয়নদাতাদের পরিচয় ও মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপন রাখে। চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) অসলোতে ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ডন আরটিভি/এসকে
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য আমি, দেবে কিনা জানি না: ট্রাম্প
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, ডিসেম্বরে আটলান্টায় আবারও শুরু হবে কনস্যুলার সেবা
জর্জিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য আবারও কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, ডিসেম্বরে আটলান্টায় আবারও শুরু হবে কনস্যুলার সেবা
ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরি, ঘুরে বেড়ালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিন ঘুরে বেড়িয়ে স্থানীয় খাবার, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিনোদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিনিময়ে ১০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরি, ঘুরে বেড়ালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডির শিক্ষাভাতায় থাকা সম্ভব? জেনে নিন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড বা শিক্ষাভাতা দিয়ে থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডির শিক্ষাভাতায় থাকা সম্ভব? জেনে নিন বিস্তারিত
আরও পড়ুন
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, ডিসেম্বরে আটলান্টায় আবারও শুরু হবে কনস্যুলার সেবা
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডির শিক্ষাভাতায় থাকা সম্ভব? জেনে নিন বিস্তারিত
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কাটল ১২ বছর, অতঃপর...
জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক