
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ১২ বছরেরও বেশি সময়। লক্ষ্য ছিল একটাই, একদিন পাবেন একটি হীরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের বিখ্যাত ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে খুঁজতে গিয়ে জ্যাক পিয়াবাডিন পেয়েছেন ৬.০৩ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া এটিই সবচেয়ে বড় হীরা। হীরাটি পাওয়ার মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ তখন টিকটকে লাইভ করছিলেন পিয়ারাডিন। মাটি খুঁড়ে পাথরটি হাতে উঠতেই বিস্ময়ে তিনি বলে ওঠেন, 'ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!' এরপর আনম্পে বলেন, 'বড় একটা পেয়ে গেছি!'
পিয়ারাডিন এই হীরাটির নাম দিয়েছেন 'আমেরিকান ড্রিম'। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও দৃষ্টিনশন হলুদ হীরা।
মিসৌরির বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর রিজার্ভ সদস্য পিয়ারাডিন ২০১৩ সালে ক্রেটার অর ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে হীরা খোঁজা শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি এখানে ৩০০টিরও বেশি রত্ন খুঁজে পেয়েছেন। হীরা খোঁজার নেশা এতটাই গভীর হয় যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মারফ্রিসববো শহরেও চলে যান।
সর্বশেষ হীরাটি খুঁজে পাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন উইসকনসিনের আরেক রত্ন-সন্ধানী মাইকেল শুমাখার। যে নুড়ি ও মাটির স্তূপ থেকে হীরাটি পাওয়া যায়, সেটি খুঁড়তে শুমাখারও সাহায্য করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি হলে পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের একটি ক্রিস্টাল খনি খোলার পরিকল্পনাও করছেন।
ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের গল্পও বেশ চমকপ্রদ। এটি একসময় উন্মুক্ত হীরা খনি ছিল। ১৯৭২ সালে জায়গাটি স্টেট পার্কে পরিণত হয়। বর্তমানে মাত্র ১৫ ডলার প্রবেশমূল্য দিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে পাঁচ গ্যালনের একটি বালতি ভর্তি পাথর নিয়ে হীরা খুঁজতে পারেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কেউ হীরা বা অন্য কোনো মূল্যবান রত্ন খুঁজে পেলে সেটি নিজের কাছে রাখতে পারেন।
পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে এখানে ৩৭ হাজারেরও বেশি হীরা পাওয়া গেছে। প্রতি বছর গড়ে ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা খুঁজে পান দর্শনার্থীরা। তবে সেগুলোর বেশিরভাগের ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেট।
এর আগে ২০২০ সালে এই পার্কে আরকানসাসের এক ব্যাংক ব্যবস্থাপক ৯ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিকও এখানে ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান।
আর এই পার্কেই ১৯২৪ সালে পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হীরা-৪০.২৩ ক্যারেটের 'আঙ্কল স্যাম'। পরে সেটি কেটে ও পালিশ করে ১২.৪২ ক্যারেটের একটি হীরায় পরিণত করা হয়। বর্তমানে এটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির 'গ্রেট আমেরিকান ডায়মন্ডস' প্রদর্শনীতে রাখা আছে।
রত্ন মূল্যায়নকারী লরা স্ট্যানলির মতে, পার্কে পাওয়া গড়ে ০.১৭ ক্যারেটের একটি হীরার দাম প্রায় ৭০০ ডলার হতে পারে। তবে পিয়ারাডিনের পাওয়া ৬ ক্যারেটের উন্নত মানের হলুদ হীরাটির মূলা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। পিয়ারাডিন অবশ্য জানিয়েছেন, কয়েকজন সংগ্রাহক তাকে বলেছেন, হীরাটির দাম ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত খনি রয়েছে-আরকানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস এবং কলোরাডোর কেলসি লেক। তবে কেলসি লেক ব্যক্তিমালিকানাধীন।
বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই সাধারণ মানুষকে নিজে হীরা খোঁজার এবং পাওয়া হীরা নিজের কাছে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই বিরল জায়গাগুলোর একটি ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ক। আর সেই পার্কেই ১২ বছরের অপেক্ষার পর পিয়ারাডিনের হাতে উঠে এলো তার 'আমেরিকান ড্রিম'।
আরটিভি/ এসকেডি




