
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইকুয়েডরের এক মা ও তার ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে পোল্ক কাউন্টি জেলে নিয়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। জানা যায়, দুর্ঘটনার তদন্ত করতে হাসপাতালে গিয়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে মা গ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও তার অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরে তার মেয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।
৩৯ বছর বয়সী গ্রেস স্টেফানি কালোরো কাবানিয়া ও তার মেয়ে জিউলিয়ানা মিয়া কারিয়েল কালোরো ২০ আগস্ট মারিগোল্ড অ্যাভিনিউ ও শেলড্রেক রোডের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিসের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের এইচসিএ ফ্লোরিডা পইনসিয়ানা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অন্য একটি গাড়ি তাদের গাড়িতে আঘাত করলে সেটি কয়েকবার উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের এক সদস্য নিউজউইককে জানান, ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তারা প্রাণে বেঁচে যাওয়াকেই সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পর মা ও মেয়েকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেসকে তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সে সময় তিনি ঘাড়ে ব্রেস পরেছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পোল্ক কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত করতে হাসপাতালে গিয়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে গ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও তার অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরে তার মেয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর আইসিই দুজনের বিরুদ্ধেই ডিটেইনার জারি করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।
আইসিইও জানিয়েছে, গ্রেস ২০২৩ সালের মার্চে এবং তার মেয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে সংস্থার দাবি, দুজনই অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, জরুরি বিভাগে আসা প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে এলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মেনে চলতে হয় বলেও জানিয়েছে হাসপাতালটি।
দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অবস্থায় ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন এবং চিকিৎসা শেষে আটক করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালগুলোতে আইসিইর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/ এসকেডি


