
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী মেয়েশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২৮ বছর বয়সী মারাইয়া থমাস। আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা প্রথম-ডিগ্রির হত্যা মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজা থেকে বাদ যাবে। ফলে থমাসকে আরও প্রায় ১১ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির একটি বাড়িতে। সেদিন পুলিশকে জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক মাস বয়সী জা'রিয়াহ মে নামের শিশুটিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভুল করে খাটের বদলে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন থমাস। তার এই বক্তব্য পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে কীভাবে এমন ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতের নথিতে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন ছিল। তদন্ত নথিতে তার পোশাক ও ডায়াপার শরীরের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক স্বজনকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়। শিশুটির সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছিল।
তবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে মামলার মোড় ঘুরে যায়। থমাস প্রথম-ডিগ্রির শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে থাকা প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়।
আদালত তাকে মিসৌরি সংশোধনাগার বিভাগের অধীনে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে প্রবেশনের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কানসাস সিটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএইচবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থমাস ইতোমধ্যে কারাগারে যে সময় কাটিয়েছেন, তা তার সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। সে হিসাবে তাকে কার্যত আরও প্রায় ১১ বছর কারাভোগ করতে হবে।
ঘটনার পর জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর জ্যঁ পিটার্স বেকার শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘটনায় একটি মূল্যবান প্রাণ হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিচারব্যবস্থা যথাযথভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
২০২৪ সালে মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দোষ স্বীকারের মাধ্যমে এখন মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। হত্যা মামলার পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মারাইয়া থমাস এবং তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: কেএসএইচবি, জ্যাকসন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়
আরটিভি/জেএমএ

