
বন্ধুদের সঙ্গে হ্রদের পানিতে আনন্দ করার সময় আঙুল থেকে খুলে পানিতে পড়ে গিয়েছিল সাধের আংটি। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। দীর্ঘ সময় হ্রদের তলদেশে পড়ে থাকার পর অবশেষে দুই শৌখিন ধাতু অনুসন্ধানকারীর প্রচেষ্টায় সেই হারানো আংটি ফিরে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের গ্রেট সাকানডাগা হ্রদে শখের বশে ধাতু ও পুরোনো জিনিসপত্র অনুসন্ধান করছিলেন মাইকেল সিগেল ও ডিলান লাপোর্ট। হ্রদের অগভীর পানিতে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে অনুসন্ধানের সময় হঠাৎ একটি বিশেষ সংকেত পান তারা।
সংকেতের উৎস খুঁজতে গিয়ে পানির নিচে থাকা একটি মাঝারি আকারের পাথর সরান ডিলান। সেখানেই তাঁর চোখে পড়ে জং না ধরা একটি চকচকে আংটি। ভালোভাবে পরীক্ষা করে তাঁরা বুঝতে পারেন, এটি ১৯৮৮ সালের রেড ক্রিক হাইস্কুলের একটি স্মারক আংটি।
আংটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে দেরি করেননি ডিলান। ফেসবুকে আংটির ছবি প্রকাশ করে মালিকের সন্ধান চেয়ে সহযোগিতা চান তিনি। তবে বেশ কিছুদিন পার হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি।
হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত তারা যোগাযোগ করেন রেড ক্রিক হাইস্কুলের সঙ্গে। স্কুলের এক নারী কর্মকর্তা আংটির নকশা, সাল ও বিভিন্ন চিহ্ন দেখে এর মালিককে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। জানা যায়, আংটিটি কিম রাসবের্ক নামের এক নারীর।
আংটি ফিরে পাওয়ার খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাসবের্ক। তিনি জানান, ২৮ বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় করে ওই হ্রদে ঘুরতে গিয়ে আংটিটি হারিয়েছিলেন। এত বছর পর সেটি ফিরে পাবেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
দুই অনুসন্ধানকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাসবের্ক তাদের অর্থ পাঠানোর প্রস্তাব দেন। ডাকযোগে আংটি ফেরত পাঠানোর খরচ রেখে বাকি অর্থ পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে সেই অর্থ নিতে অস্বীকৃতি জানান মাইকেল ও ডিলান। তাদের ভাষ্য, কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য তারা আংটিটি খুঁজে বের করেননি। বরং হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান স্মৃতি মালিকের হাতে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পারাটাই তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
মাইকেল সিগেল ও ডিলান লাপোর্ট জানান, মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে অনুসন্ধান করা তাদের প্রিয় শখ। তবে মানুষের হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিস ও স্মৃতি তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারাটাই এই শখের সবচেয়ে আনন্দের দিক।
আরটিভি/এসকে


