ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নেকড়ে হত্যা বৈধ করার পথে ট্রাম্প!, আসছে বড় সিদ্ধান্ত 

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধূসর নেকড়ে ও মেক্সিকান নেকড়ের জন্য থাকা বিপন্ন প্রজাতির আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু রক্ষার জন্য খামারি ও পশুপালকদের নেকড়ে হত্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও আমেরিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে খামারিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নেকড়ের সংখ্যা বাড়ানোর কয়েক দশকের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বন্য অবস্থায় মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি। ১৯৯৮ সালে তাদের আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এই সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ধূসর নেকড়ে রয়েছে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ডে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ায় প্রজাতিটি এখনও বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে খামারিরা এখনই নেকড়ে গুলি করে হত্যা করতে পারবেন-এমন নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রসচিব ডগ বার্গামকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নেকড়েদের সংখ্যা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। নেকড়েদের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে কি না এবং তাদের শবিপন্ন প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই পর্যালোচনা করা হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গবাদিপশুর ওপর নেকড়ের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। তাদের মতে, নেকড়ের হামলার কারণে খামারিদের আয়ের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে না।

ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপপরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বলেন, নেকড়েকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন খামারিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতির প্রভাব থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল।

ওয়ালফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নেকড়ের আক্রমণে গবাদিপশু মারা গেলে বর্তমান ব্যবস্থায় খামারিরা ক্ষতির সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য নেকড়ের হামলা ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দেয়।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওয়ালফ রিকভারি প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ক্লেয়ার মাসার বলেন, শুধু নেকড়ের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মেক্সিকান নেকড়েকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না। এখন ফেডারেল সুরক্ষা দুর্বল করা হলে কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ঝুঁকিতে পড়বে।

ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। খরার পাশাপাশি গবাদিপশুর মধ্যে পরজীবী সংক্রমণের কারণে মাংসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

দাম কমানোর চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গরুর মাংস আমদানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিখিল করেছে। এতে মার্কিন খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন এতে তাদের সীমিত লাভের ওপর আরও চাপ পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নেকড়েদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে দেশটির সরকার নেকড়েদের নির্মূল করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। কৃষক ও ভূমিমালিকরাও নেকড়ে ধরে হত্যা করতেন। এসব কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্রে নেকড়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়।
বর্তমানে নেকড়েদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন রয়েছে। ফলে গবাদিপশুর ওপর হামলা করলেও অনুমতি ছাড়া নেকড়ে হত্যা করা অনেক ক্ষেত্রে ফেডারেল আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরটিভি/এমএ


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করে।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যোগ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সার‍্যান্ডন ও জনপ্রিয় কমেডি তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডারসহ শতাধিক সংস্কৃতি কর্মী।
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালেই শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্টের ফান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালেই শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্টের ফান্ড
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে আয় কত লাগবে, জানাল ইউএসসিআইএস
পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে গ্রিন কার্ড প্রসেস করার ক্ষেত্রে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন সর্বনিম্ন আয়সীমা ঘোষণা করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। মূলত ফর্ম আই-৮৬৪ বা ‘অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট’-এর আওতায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থেকে নতুন এই আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেটসহ ওয়াশিংটন ডিসি, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসের জন্য দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে স্পনসরের ন্যূনতম বার্ষিক আয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫০ ডলার। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন হলে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চারজন হলে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচজনের পরিবারের ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে। একই অঞ্চলে ৬, ৭ ও ৮ সদস্যের পরিবারের জন্য স্পনসরের বাৎসরিক আয় যথাক্রমে ৫৫ হাজার ৪৫০, ৬২ হাজার ৫৫০ এবং ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার করে বাড়তি আয় যুক্ত করতে হবে। অন্যান্য স্টেটের তুলনায় হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে এই আয়সীমা কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার ও আট সদস্যের পরিবারের জন্য ৮০ হাজার ৮৮ ডলার আয় দেখাতে হবে। এই অঞ্চলে আটজনের পর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যুক্ত হবে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য যারা নিজ স্বামী বা স্ত্রী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পনসর করবেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ১২৫ শতাংশের বদলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার আয় প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া মূল স্পনসরের প্রয়োজনীয় আয় না থাকলে নির্দিষ্ট নিয়মে জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা কিংবা নিজস্ব সম্পদ দেখিয়েও গ্রিন কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আরটিভি/এআর 
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে আয় কত লাগবে, জানাল ইউএসসিআইএস
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে কম সিজিপিএ থাকলেও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ থাকে।
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ