
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সময় শুধু বাড়ির দাম ও মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই হয় না। প্রতি বছর কত প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হবে, সেটিও আগেই জানা জরুরি। কারণ এই ট্যাক্সের পরিমাণ রাজ্য, কাউন্টি ও স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিটভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের মাসিক খরচে বড় প্রভাব ফেলে।
প্রপার্টি ট্যাক্স সাধারণত স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিট আদায় করে। এই অর্থ স্কুল, রাস্তা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মালিকের বসবাস করা বাড়ির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স হারের হিসাবে নিউ জার্সি ছিল ১.৮৮ শতাংশ, কানেকটিকাট ১.৫৪ শতাংশ এবং মিসৌরি ০.৮৯ শতাংশ। একই হিসাবে টেক্সাসের হার ছিল ১.৪০ শতাংশ।
তবে এসব হারকে সরাসরি প্রতিটি বাড়ির নির্দিষ্ট ট্যাক্স বিল হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়ির মূল্য নির্ধারণ ও অ্যাসেসমেন্টের নিয়ম এক নয়। কোথাও বাজারমূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশকে অ্যাসেসড ভ্যালু হিসেবে ধরে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। আবার স্থানীয় সরকার, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিটের আলাদা লেভিও থাকতে পারে। ফলে একই দামের দুটি বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্সও ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়িতে ১ শতাংশ কার্যকর হার প্রযোজ্য হলে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২০৮ ডলার ট্যাক্স দাঁড়ায়। তবে নিউ জার্সি বা কানেকটিকাটের মতো তুলনামূলক বেশি প্রপার্টি ট্যাক্সের রাজ্যে একই দামের বাড়ির প্রকৃত ট্যাক্স বিল স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। তাই শুধু বাড়ির বিক্রয়মূল্য দেখে মাসিক খরচের হিসাব করা ঝুঁকিপূর্ণ।
বাড়ি কেনার পরও ট্যাক্সের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাড়ির অ্যাসেসড ভ্যালু পুনর্মূল্যায়ন করলে ট্যাক্স বিল বাড়তে পারে। আবার স্থানীয় ট্যাক্স রেট পরিবর্তন হলেও মালিকের বার্ষিক খরচে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের প্রপার্টি ট্যাক্স রেকর্ড দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
টেক্সাসের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার। সেখানে স্টেট প্রপার্টি ট্যাক্স নেই। তবে স্থানীয় কাউন্টি, সিটি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিট প্রপার্টি ট্যাক্স আদায় করে। টেক্সাস কম্পট্রোলারের তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থানীয় সংস্থাই ট্যাক্সের হার নির্ধারণ করে এবং সেই অর্থ স্থানীয় সেবায় ব্যবহার করে।
বাড়ি কেনার আগে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্ট কাউন্টির অ্যাসেসর বা অ্যাপ্রেইজাল ডিস্ট্রিক্টের রেকর্ড থেকে বাড়িটির আগের প্রপার্টি ট্যাক্স কত ছিল তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে বাড়িটি হোমস্টেড এক্সেম্পশনের জন্য যোগ্য কি না, সেটিও জানা দরকার। কারণ এ ধরনের ছাড়ের নিয়ম ও সুবিধার পরিমাণ রাজ্য ও স্থানীয় এলাকার ওপর নির্ভর করে।
তাই নতুন বাড়ি দেখার সময় শুধু মর্টগেজের মাসিক কিস্তি নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, সম্ভাব্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ মিলিয়ে মোট মাসিক ব্যয় হিসাব করাই নিরাপদ। এতে বাড়ি কেনার পর অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ কমানো সম্ভব।
আরটিভি/ এসকেডি



