ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গুরুত্বপূর্ণ মেইল বা ডকুমেন্ট হারালে করণীয় ৭ পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

আমেরিকায় নতুন আসার পর গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডাকযোগে পাওয়ার কথা থাকলেও তা হাতে না এলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঠিক নয়। মেইল দেরি, ভুল ঠিকানায় চলে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে ডকুমেন্ট উদ্ধারের সুযোগ বাড়ে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে নতুন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়।

মার্কিন ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেইল না পেলে প্রথমে সেটির অবস্থান বা ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করা উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে জানানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

১. ডাক বিভাগের মেইল নোটিফিকেশন চালু করুন

মার্কিন ডাক বিভাগের বিনামূল্যের ‘ইনফর্মড ডেলিভারি’ সেবা চালু করলে আপনার ঠিকানায় আসতে থাকা চিঠির ডিজিটাল প্রিভিউ এবং প্যাকেজের আপডেট পাওয়া যায়। চিঠির ক্ষেত্রে সাধারণত খামের ঠিকানা অংশের স্ক্যান করা ছবি দেখা যায়।

ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আসার কথা জানা থাকলেও সেটি হাতে না এলে দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে অনলাইনে চিঠির প্রিভিউ দেখা মানেই সেটি ইতোমধ্যে মেইলবক্সে পৌঁছে গেছে, এমন নয়। প্রিভিউ দেখানোর পরও কোনো কোনো মেইল পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।

২. হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করুন

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেইল না এলে ডাক বিভাগের ‘মিসিং মেইল সার্চ’ সেবার মাধ্যমে খোঁজার আবেদন করা যায়। সাধারণত মেইল পাঠানোর সাত দিন পর এই আবেদন করা যায়।

আবেদনের সময় প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা, মেইল পাঠানোর তারিখ, ট্র্যাকিং নম্বর থাকলে সেটি এবং মেইলের ধরন ও ভেতরে থাকা সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য দিতে হতে পারে। তবে আবেদন করলেই ডাক বিভাগ মেইলটি খুঁজে পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

৩. স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন

মেইল হারিয়ে গেছে বা ভুলভাবে ডেলিভারি হয়েছে বলে মনে হলে স্থানীয় পোস্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মেইলটির সম্ভাব্য তথ্য সঙ্গে রাখলে কর্মকর্তাদের বিষয়টি খুঁজে দেখতে সুবিধা হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মেইলের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে অভিযোগ করে বসে না থেকে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসেও যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র না এলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানান

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র ঠিকানায় না পৌঁছালে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধান করা যায়।

তবে নতুন করে অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এই অনুসন্ধান করতে হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের নোটিশ পাওয়ার পর অন্তত ৯০ দিন অপেক্ষা করে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়

কার্ড হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। তাই মেইলের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় না থেকে নিজের আবেদনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

৫. সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনে যোগাযোগ করুন

সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত প্রায় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড পৌঁছানোর কথা।

এই সময়ের মধ্যে কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কার্ড হারিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নতুন কার্ডের আবেদন করা যায় এবং এর জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না।

৬. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করুন

নতুন বাসায় ওঠার পর ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন না করলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। তাই বাসা পরিবর্তনের পর মেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

তবে ডাক বিভাগের ঠিকানা পরিবর্তন করলেই সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নথিতে ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানকেও আলাদাভাবে নতুন ঠিকানা জানাতে হবে।

৭. গুরুত্বপূর্ণ মেইল পাঠানোর সময় ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক সেবা ব্যবহার করুন

গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা প্যাকেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক ডাকসেবা ব্যবহার করা হলে ডেলিভারির তথ্য পাওয়া সহজ হয়। কিছু সেবায় ডেলিভারির সময়, তারিখ এবং স্বাক্ষরের তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। নির্দিষ্ট কিছু সেবার মাধ্যমে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তির কাছে মেইল পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা যায়।

তবে সরকারি সংস্থার পাঠানো সব ডকুমেন্টে প্রাপক নিজের ইচ্ছামতো স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা যোগ করতে পারেন না। কোন ধরনের ডাকসেবা ব্যবহার করা হবে, তা সাধারণত প্রেরকের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।

গুরুত্বপূর্ণ মেইল হাতে না এলে প্রথমে সেটির ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আর মেইল চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিদর্শন সেবায় অভিযোগ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলে পরিচয় চুরির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করে।
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যোগ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সার‍্যান্ডন ও জনপ্রিয় কমেডি তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডারসহ শতাধিক সংস্কৃতি কর্মী।
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালেই শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্টের ফান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালেই শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্টের ফান্ড
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে আয় কত লাগবে, জানাল ইউএসসিআইএস
পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে গ্রিন কার্ড প্রসেস করার ক্ষেত্রে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন সর্বনিম্ন আয়সীমা ঘোষণা করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। মূলত ফর্ম আই-৮৬৪ বা ‘অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট’-এর আওতায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থেকে নতুন এই আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেটসহ ওয়াশিংটন ডিসি, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসের জন্য দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে স্পনসরের ন্যূনতম বার্ষিক আয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫০ ডলার। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন হলে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চারজন হলে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচজনের পরিবারের ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে। একই অঞ্চলে ৬, ৭ ও ৮ সদস্যের পরিবারের জন্য স্পনসরের বাৎসরিক আয় যথাক্রমে ৫৫ হাজার ৪৫০, ৬২ হাজার ৫৫০ এবং ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার করে বাড়তি আয় যুক্ত করতে হবে। অন্যান্য স্টেটের তুলনায় হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে এই আয়সীমা কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার ও আট সদস্যের পরিবারের জন্য ৮০ হাজার ৮৮ ডলার আয় দেখাতে হবে। এই অঞ্চলে আটজনের পর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যুক্ত হবে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য যারা নিজ স্বামী বা স্ত্রী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পনসর করবেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ১২৫ শতাংশের বদলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার আয় প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া মূল স্পনসরের প্রয়োজনীয় আয় না থাকলে নির্দিষ্ট নিয়মে জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা কিংবা নিজস্ব সম্পদ দেখিয়েও গ্রিন কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আরটিভি/এআর 
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে আয় কত লাগবে, জানাল ইউএসসিআইএস
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে কম সিজিপিএ থাকলেও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ থাকে।
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
আরও পড়ুন
দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ক্রেডিট কার্ডে নির্ভরতা বাড়ছে মার্কিন পরিবারগুলোর
ক্যালিফোর্নিয়ার সব হাসপাতালের লিস্ট ও জরুরি নম্বরসমূহ জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনে কম খরচ হয় যেসব রাজ্যে
আইফোনের চেয়েও দামি ‘ট্রাম্প ফোন’, এক লাফে ৭৪৯ ডলার