
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনের খরচ বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ভাবছে, দুজনই চাকরি করবেন নাকি একজন বাড়িতে থেকে সন্তানের দেখাশোনা করবেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকলেও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ তুলনামূলক কম আয়ে সামলানো সম্ভব।
আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে ৫০টি রাজ্যে তিন সদস্যের একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয় তুলনা করা হয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে এমন একটি পরিবার ধরে, যেখানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু রয়েছে এবং একজন অভিভাবক চাকরি না করে বাড়িতে থেকে শিশুর যত্ন নিচ্ছেন। গবেষণাটি ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।
গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম আয়ে এমন পরিবার চালানো সম্ভব আরকানসাসে। সেখানে একজন কর্মজীবী অভিভাবকের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ৬৮ হাজার ৮৬৯ ডলার। এরপর রয়েছে মিসিসিপি, কেনটাকি, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও নর্থ ডাকোটা। এসব রাজ্যে একজন অভিভাবক বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় তুলনামূলকভাবে কম।
কেনটাকিতে এই পরিবারের জন্য একজন কর্মজীবী অভিভাবকের প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ হাজার ১৭৯ ডলার। অন্যদিকে টেনেসিতে প্রয়োজন প্রায় ৭২ হাজার ৯৪৬ ডলার। টেনেসির ক্ষেত্রে দুজন অভিভাবক কাজ করলে পরিবারের মোট প্রয়োজনীয় আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ হাজার ৭৫ ডলার।
তবে সব রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। হাওয়াইয়ে একজন অভিভাবককে বাড়িতে রেখে পরিবার চালাতে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন—প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৬ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ২১৩ ডলার এবং ম্যাসাচুসেটসে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৬৫ ডলার। অর্থাৎ বসবাসের রাজ্য অনুযায়ী একজন অভিভাবক ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনের আর্থিক বাস্তবতায় বড় পার্থক্য রয়েছে।
স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, একজন অভিভাবক বাড়িতে থাকলে পরিবারের বড় একটি ব্যয়—শিশুর দেখাশোনার খরচ—কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে একজনের বেতন, অবসরকালীন সঞ্চয়ে অবদান, সোশ্যাল সিকিউরিটির উপার্জনভিত্তিক সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া স্বাস্থ্যসুবিধার মতো বিষয় হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু আয় নয়, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব হিসাব রাজ্যভিত্তিক গড় মডেলের ওপর তৈরি। বসবাসের কাউন্টি, সন্তানের বয়স, কর ও সরকারি সুবিধার পার্থক্যের কারণে একটি পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে। গবেষণার তথ্যের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্র: ডব্লিউকেআরএন, স্মার্টঅ্যাসেট, এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর।
আরটিভি/ এসকেডি

-1791279891-407901_1791279918.jpg)
