
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি হাইস্কুলে কর্মরত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেমন্ড কার্নারকে একাধিক নারীর করা অনৈতিক ও যৌন আচরণের অভিযোগের মুখে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কোরাল স্প্রিংস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কোরাল স্প্রিংসের জে পি তারাভেলা হাইস্কুলে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর ‘স্কুল রিসোর্স অফিসার’ হিসেবে কাজ করেন রেমন্ড কার্নার। ২০২২ সালে পুলিশ বিভাগ থেকে স্বাভাবিক অবসরে গেলেও একই বছর পার্টটাইম মৌসুমি কর্মকর্তা হিসেবে আবার কাজে ফেরেন তিনি। পরে ঈগল রিজ এলিমেন্টারি স্কুলেও দায়িত্ব সামলান কার্নার।
সম্প্রতি কয়েকজন নারী তার বিরুদ্ধে অনভিপ্রেত ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসতেই তাকে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্নারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু স্পর্শকাতর অভিযোগ রয়েছে। এক সাবেক শিক্ষার্থী জানান, তার পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে জোরপূর্বক টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন কার্নার। আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তিনি স্কুলে পড়ার সময় কার্নার ফেসটাইমে তাকে পর্নোগ্রাফি দেখাতেন এবং অশালীন আচরণ করতেন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, অশ্লীল প্রদর্শন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে অশালীন উপকরণ দেখানোর মতো একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলেও রেমন্ড কার্নারের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের হচ্ছে না। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগ ঘটনাই আইনে নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়সীমা (স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনস) পার হয়ে যাওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রশাসনিকভাবে বরখাস্ত হলেও আদালতে তিনি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি।
পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন কোরাল স্প্রিংসের পুলিশ প্রধান ব্র্যাড মক। তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা বজায় রাখা জরুরি ছিল। এই ধরনের ঘটনার শিকার আর কোনো ভুক্তভোগী থাকলে তাদের সংকোচ না করে তথ্য দিতে পুলিশ বিভাগে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এআর


