
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আইসক্রিমের সঙ্গে পেরেক ও ধাতব টুকরো গিলে গুরুতর অসুস্থ হওয়া এক নারীকে ১ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২৫ দশমিক ৩৯ ডলার বা ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জুরি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৪১ কোটি টাকার বেশি।
ব্র্যান্ডি বাকলি নামের ওই নারী ২০১৮ সালে পাম বে শহরের একটি ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের দোকান থেকে বাটার পেকান আইসক্রিম কিনেছিলেন। আইসক্রিম খাওয়ার পরই তার গলায় কিছু আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। পরে চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে একটি পেরেক ও একাধিক ধাতব টুকরো বের করেন।
ঘটনাটি নিয়ে ২০১৯ সালে মালাবার ক্রিমারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাকলি। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিচার শেষে ২০২৬ সালের মার্চে ব্রেভার্ড কাউন্টির ছয় সদস্যের জুরি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজার—দুই পক্ষকেই দায়ী করেন।
ঘটনার দিন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আইসক্রিমের দোকানে গিয়েছিলেন বাকলি। বাটার পেকান আইসক্রিম খাওয়ার পর তার গলায় কিছু আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো বাদামের টুকরো।
পরে আরও আইসক্রিম নেওয়ার সময় তিনি আইসক্রিমের মধ্যে একটি ধাতব পেরেক দেখতে পান। এরপর হাসপাতালে গেলে এক্স-রে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি ধাতব একটি বস্তু গিলে ফেলেছেন।
বাকলির আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় তার শরীর থেকে একটি পেরেক ও একাধিক ধাতব টুকরো বের করা হয়। এরপরও তার চিকিৎসা চলতে থাকে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বাকলি পরে পোর্টাল শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতায় আক্রান্ত হন। এ কারণে তার শরীরে উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে আরও একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
বাকলির আইনজীবীদের দাবি, এসব চিকিৎসাজনিত জটিলতার পর তিনি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের সক্ষমতা হারান।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের পণ্যে পেরেক ও অন্যান্য ধাতব টুকরো থাকার কারণেই বাকলি গুরুতর আহত হন।
মামলার জবাবে মালাবার ক্রিমারিজ একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, ঘটনার জন্য বাকলির নিজের অবহেলাও দায়ী বা আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, বিক্রি করা আইসক্রিম ত্রুটিপূর্ণ ছিল না।
তবে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিচার চলার পর জুরি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজার—উভয় পক্ষকেই দায়ী করেন। এরপর বাকলির জন্য মোট ১ কোটি ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২৫ দশমিক ৩৯ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
মামলার আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ব্যয়, শারীরিক ক্ষতি ও ভোগান্তিসহ বিভিন্ন ক্ষতির জন্য এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুরির রায়ের পরও মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বাকলির আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়েশ জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বাকলি কবে হাতে পাবেন, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: ওয়েশ, কেসিসিআই, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো, ব্রেভার্ড কাউন্টি আদালতের নথি, আলপিজার ল
আরটিভি/জেএমএ


