
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি কেনা অনেকের কাছেই কঠিন মনে হলেও প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া যোগ্য ক্রেতাদের জন্য রয়েছে সরকারি সহায়তার সুযোগ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের ‘হোমফার্স্ট’ কর্মসূচি।
এই কর্মসূচির আওতায় বাড়ির প্রাথমিক মূল্য পরিশোধ ও বাড়ি কেনার আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
এ কর্মসূচির আওতায় ১ থেকে ৪ ইউনিটের বাড়ি, কনডোমিনিয়াম বা সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনা যাবে। তবে কেনা বাড়িটি ক্রেতার প্রধান বাসস্থান হতে হবে। পাশাপাশি বাড়িটি কেনার আগে নির্ধারিত আবাসন মানের পরিদর্শনে উত্তীর্ণ হতে হবে।
হোমফার্স্টের আওতায় পাওয়া ১ লাখ ডলার সরাসরি নগদ অনুদান নয়। এটি নির্দিষ্ট শর্তে দেওয়া ঋণ।
৪০ হাজার ডলার বা তার কম সহায়তা নিলে ক্রেতাকে ওই বাড়িতে অন্তত ১০ বছর প্রধান বাসস্থান হিসেবে থাকতে হবে। আর ৪০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা নিলে অন্তত ১৫ বছর সেখানে বসবাস করতে হবে।
এছাড়া আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বার্ষিক আয়েরও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।
২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী, এক সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় হতে পারবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৬০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আয়সীমা ২ লাখ ৩ হাজার ৫২০ ডলার।
এছাড়া এক ইউনিটের বাড়ির ক্ষেত্রে ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে সর্বোচ্চ বাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ডলার।
হোমফার্স্টের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেও সাশ্রয়ী মূল্যে কনডোমিনিয়াম ও সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।
মধ্যম ও মাঝারি আয়ের পরিবারের জন্য রয়েছে ‘মিচেল-লামা’ কর্মসূচি। এর আওতায় সমবায়ী মালিকানার বাড়ি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ সুবিধার জন্য আলাদা অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকতে হয়।
অন্যদিকে, যারা নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য নিউইয়র্ক স্টেট মর্টগেজ এজেন্সির অধীনেও বিভিন্ন প্রাথমিক মূল্য পরিশোধ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে।
তবে সরকারি সহায়তায় বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সর্বশেষ নিয়ম ও শর্ত যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি অনুমোদিত আবাসন পরামর্শকের পরামর্শ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ

