ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

৬৫ বছর পর ধরা পড়ল খুনি, ছিলেন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ এএম
১৯৬০ সালে আট বছর বয়সী গ্লোরিয়া কোয়ালেউইচ হত্যার ৬৫ বছর পর ডিএনএ ও আঙুলের ছাপের সূত্রে শনাক্ত হয়েছেন সাবেক শিকাগো পুলিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা থমাস এফ ম্যাকইনার্নি জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ৬৫ বছর পর রহস্যের সমাধান হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি একসময় শিকাগো পুলিশেরই একজন খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।

নিহত শিশুটির নাম গ্লোরিয়া কোয়ালেউইচ। ১৯৬০ সালের ১২ নভেম্বর শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে গির্জায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে শহরজুড়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় হাজারো মানুষকে, খতিয়ে দেখা হয় শত শত সূত্র। কিন্তু তখন হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি এবং সাবধানে সংরক্ষিত একটি আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তার নাম থমাস এফ ম্যাকইনার্নি জুনিয়র।

ম্যাকইনার্নি ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে গ্লোরিয়া হত্যার সময় তার বয়স ছিল ২৪ বছর। তখন তিনি পশ্চিম শিকাগোতে কর্মরত একজন টহল পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান।

পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকইনার্নি ২৮ বছর চাকরি করার পর ১৯৮৭ সালে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেন। পরে নেভাদা অঙ্গরাজ্যে চলে যান। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০০৪ সালে ওই চাকরি থেকেও অবসর নেন তিনি।

২০০৬ সালে ৭০ বছর বয়সে লাস ভেগাসে তার মৃত্যু হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত হলেও জীবদ্দশায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি।

শিকাগো পুলিশ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাকইনার্নির কখনোই পুলিশ বিভাগের পরিচয়চিহ্ন ধারণ করার যোগ্যতা ছিল না। জীবিত থাকাকালে তাকে শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি—এটি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন শনিবার সকাল ৮টার কিছু আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল গ্লোরিয়া। কয়েক ব্লক দূরে সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় সকালের প্রার্থনায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গ্লোরিয়া কিছুদিন আগেই প্রথম ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহণ করেছিল। সেদিন তার পরনে ছিল গোলাপি ও বাদামি রঙের ছককাটা পোশাক এবং নীল রঙের একটি পোশাক।

কিন্তু গির্জায় পৌঁছানো হয়নি তার। বাড়ি ও গির্জার মাঝপথ থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্লোরিয়াকে মাথায় দুবার গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকার পাশের নালায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। এক গাড়িচালক শিশুটির রঙিন পোশাক দেখে কাছে গিয়ে মরদেহটি খুঁজে পান।

ঘটনাস্থল থেকে গুলি, গ্লোরিয়ার কোট, জুতা এবং প্রার্থনার বই রাখা সাদা ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেন তদন্তকারীরা। ওই ব্যাগের ফিতায় পাওয়া যায় একটি আঙুলের ছাপ। তবে দীর্ঘদিন এসব আলামত থেকেও হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর সেন্ট মেরি অব মাউন্ট কারমেল গির্জায় গ্লোরিয়ার শেষকৃত্যে এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত আলামত নতুন করে পরীক্ষা করার পর ২০১০ সালে তদন্তকারীরা গ্লোরিয়ার পোশাকে পাওয়া বীর্যের নমুনা থেকে সম্ভাব্য হত্যাকারীর ডিএনএ পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হন। তবে তখনও কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

২০২৪ সালে শিকাগো পুলিশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই ডিএনএ নমুনার সঙ্গে পারিবারিক বংশপরিচয় অনুসন্ধানের ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া বিভিন্ন জিনগত নমুনার তুলনা করে। এ প্রক্রিয়ায় ম্যাকইনার্নির পরিচয় শনাক্ত হয়।

এরপর তদন্তকারীরা ১৯৫৯ সালে শিকাগো পুলিশে চাকরির আবেদনের সময় ম্যাকইনার্নির দেওয়া আঙুলের ছাপের সঙ্গে গ্লোরিয়ার ব্যাগের ফিতায় পাওয়া ছাপের মিল খুঁজে পান। ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ—দুই ধরনের আলামত মিলিয়ে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ম্যাকইনার্নির ডিএনএ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সম্মিলিত ডিএনএ তথ্যভান্ডারেও রয়েছে। তার সঙ্গে অন্য কোনো অমীমাংসিত অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

এফবিআই জানিয়েছে, গ্লোরিয়া হত্যার আলামত এবং শিশুদের লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটনকারীদের আচরণ ও ভুক্তভোগীদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সময়ের অন্যান্য অমীমাংসিত অপরাধের সূত্রও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

গ্লোরিয়ার ভাই অ্যাডাম কোয়ালেউইচ তখন শিশু ছিলেন। বোনের হত্যার ঘটনায় ম্যাকইনার্নি জীবদ্দশায় শাস্তি না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, হত্যাকারী স্বাভাবিক জীবন কাটিয়ে মারা গেছেন, কখনো নিজের অপরাধের শাস্তি পাননি।

তবে গ্লোরিয়াকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকইনার্নির বাবা-মায়ের বাড়ি কোয়ালেউইচ পরিবারের বাড়ি থেকে এক মাইলেরও কম দূরে ছিল। কিন্তু গ্লোরিয়ার সঙ্গে ম্যাকইনার্নির আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া গ্লোরিয়া হত্যার তদন্তে ম্যাকইনার্নি কখনো যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। অবসরের পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীদের দপ্তরে তদন্তকারী হিসেবে কাজ করার সময় ২০০৩ সালে অসামান্য কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য, পাঁচ সন্তানের বাবা এবং কয়েকজন নাতি-নাতনির দাদা।

৬৫ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও সংরক্ষিত আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হ্যালোইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্দুক হামলা, নিহত অন্তত ২৪
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসব ঘিরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক বন্দুক হামলা ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। 
হ্যালোইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্দুক হামলা, নিহত অন্তত ২৪
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ বিমানের সব আরোহী নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে মোট ৯ জন ছিলেন।
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ শহরে একটি ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোর দূরত্ব মাত্র ৯ মাইল (১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার)।
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ জন রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট দলের। এবার সবচেয়ে বেশি নজর মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, চিকিৎসক ও ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।  নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এল-সায়েদ। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও লড়ছেন পরিচিত মুসলিম রাজনীতিক ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন। পাশাপাশি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মূল নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুসলিম প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশিগানের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।  তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নারী। এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা কতটা সাফল্য পান, বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর ভোটারদের। তাদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউ জার্সিতে বাড়ি কেনার কথা ভাবলেই অনেকের কাছে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। তবে অঙ্গরাজ্যটির কিছু শহর ও আবাসিক এলাকায় এখনো দেড় লাখ ডলার বা তার কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।  কোথাও ছোট আকারের বাড়ি, কোথাও পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি, আবার কোথাও নির্দিষ্ট বয়সীদের জন্য গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১০টি এলাকার কথা তুলে ধরেছে আবাসন ও ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস। তালিকার প্রথমে রয়েছে ওশান কাউন্টির ম্যানচেস্টার টাউনশিপের হোয়াইটিং এলাকা। এখানে ক্রেস্টউড ভিলেজের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে এক ও দুই শয়নকক্ষের ছোট বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কিছু বাড়ির দাম ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের নিচেও থাকতে পারে। এলাকাটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও শান্ত পরিবেশে থাকতে আগ্রহীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ক্রেস্টউড ভিলেজের কয়েকটি প্রকল্প ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত। ফলে বাড়ি কেনার আগে বয়সসংক্রান্ত শর্ত, সমবায় মালিকানার নিয়ম এবং মাসিক ফি যাচাই করা জরুরি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলাডেলফিয়ার কাছের ক্যামডেন শহর। এখানে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি বা রো-হোম পাওয়া যেতে পারে। কিছু বাড়ি বসবাসের উপযোগী অবস্থায় থাকলেও অন্যগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে।  ডেলাওয়্যার নদীর অপর পাশে ফিলাডেলফিয়া হওয়ায় কর্মসূত্রে শহরটিতে যাতায়াতকারীদের জন্য ক্যামডেন ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক। তবে শহরের সব এলাকায় আবাসন পরিস্থিতি এক নয়। তাই বাড়ি কেনার আগে পাড়া, নিরাপত্তা, পরিবহন এবং সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে অবস্থিত ফিলিপসবার্গও কম দামের বাড়ির সম্ভাব্য ঠিকানা হিসেবে প্রতিবেদনে রয়েছে। নিউ জার্সির পশ্চিম প্রান্তের এই শহরে পুরোনো ছোট বাড়ি ও টাউনহোম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  নদীর অপর পাশে পেনসিলভানিয়ার ইস্টন শহর থাকায় বাসিন্দারা দুই এলাকার সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। তবে কম দামের অনেক বাড়িতে সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কেনার আগে কাঠামোগত অবস্থা ও সংস্কারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত আটলান্টিক সিটিও তালিকায় রয়েছে। শহরটির পর্যটন এলাকা থেকে কিছুটা দূরের আবাসিক পাড়ায় ছোট বাংলো ও কন্ডো দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। সমুদ্রসৈকত, বোর্ডওয়াক এবং পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার সুযোগ এ এলাকার আকর্ষণ।  তবে কন্ডো কেনার ক্ষেত্রে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ফি, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিয়ম জানা জরুরি। সম্পত্তির অবস্থান ও মূল্যায়নের ওপর করের পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। ফলে শুধু কেনার দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাসিক ও বার্ষিক ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত সালেম শহরও সাশ্রয়ী আবাসনের সম্ভাব্য জায়গা। সালেম কাউন্টির এই শহরে পুরোনো একক পরিবারের বড় বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়িতে চার বা তার বেশি শয়নকক্ষ এবং প্রশস্ত বসার জায়গা রয়েছে।  শহরটির ইতিহাস ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রামীণ পরিবেশ, স্থানীয় দোকানপাট ও কৃষিপণ্যের বাজার এখানকার জীবনযাত্রার অংশ। তবে পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছাদ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন ও ভিত্তির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ার কাছাকাছি গ্লুচেস্টার সিটিও তালিকায় রয়েছে। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে ক্যামডেনের দক্ষিণে অবস্থিত এ শহরে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি ও ছোট কটেজ ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। বেন ফ্র্যাঙ্কলিন ও ওয়াল্ট হুইটম্যান সেতু দিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে এলাকাটি আকর্ষণীয় হতে পারে।  সাম্প্রতিক বাজারের তালিকাতেও গ্লুচেস্টার সিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে বাড়ির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। তবে প্রতিটি বাড়ির অবস্থা ও অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ওশান কাউন্টির লিটল এগ হারবার টাউনশিপে রয়েছে মিস্টিক শোরস নামের আবাসন প্রকল্প। এখানে ছোট আকারের সংযুক্ত বাড়ির দাম প্রায় দেড় লাখ ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন হওয়ায় সব ক্রেতা এখানে বাড়ি কেনার যোগ্য নন।  প্রকল্পটিতে সাধারণ সুবিধা, পরিচর্যা করা উন্মুক্ত জায়গা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। বারনেগেট বে এবং লং বিচ আইল্যান্ডের সৈকত কাছাকাছি হওয়ায় মাছ ধরা, নৌভ্রমণ ও সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির বৃহত্তম শহর ভিনল্যান্ডও কম বাজেটের ক্রেতাদের জন্য একটি সম্ভাব্য এলাকা। এখানে একতলা র‌্যাঞ্চ ধরনের বাড়ি ও সংস্কার প্রয়োজন এমন পুরোনো বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে। শহরটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, খোলা জায়গা এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার জীবনযাত্রায় আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।  তবে সাম্প্রতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ভিনল্যান্ড অঞ্চলে বাড়ির মধ্যম বিজ্ঞাপিত মূল্য প্রায় ৩ লাখ ডলার। ফলে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি খুঁজতে হলে নির্দিষ্ট কিছু কম দামের বা সংস্কার প্রয়োজন এমন সম্পত্তির দিকে নজর দিতে হবে। নিউ ইয়র্কের কাছাকাছি থাকতে চান, এমন ক্রেতাদের জন্য তালিকায় রয়েছে এসেক্স কাউন্টির ইস্ট অরেঞ্জ। এখানে ছোট স্টুডিও ও এক শয়নকক্ষের কন্ডো ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনজে ট্রানজিটের রেলসেবা ব্যবহার করে ইস্ট অরেঞ্জ থেকে নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনে যাওয়া যায়।  ভবনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে বাইরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ জায়গার দেখভাল করে। তবে কন্ডো কেনার আগে মাসিক সমিতি ফি, ভবনের আর্থিক অবস্থা এবং মেরামতের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। তালিকার শেষের দিকে রয়েছে বার্লিংটন কাউন্টির পেমবার্টন টাউনশিপের ব্রাউনস মিলস এলাকা। পাইনল্যান্ডস অঞ্চলের বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই এলাকায় দুই শয়নকক্ষের ছোট কটেজ দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। কাছাকাছি রয়েছে জয়েন্ট বেস ম্যাকগুইয়ার-ডিক্স-লেকহার্স্ট সামরিক ঘাঁটি।  এ কারণে সামরিক বাহিনীর সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং ঘাঁটিতে কর্মরত বেসামরিক ব্যক্তিদের একটি অংশ এলাকায় বসবাস করেন। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হাঁটার পথ, কায়াকিং এবং বনাঞ্চলে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল। তবে তালিকায় থাকা সব এলাকায় দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি সব সময় পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়ির দাম, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির জন্য থাকা সম্পত্তির সংখ্যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।  নিউ জার্সির আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপিত দামের সঙ্গে তালিকার কিছু এলাকার দামের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। তাই সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান দাম, সম্পত্তি কর, সংস্কার ব্যয়, কন্ডো বা সমবায় ফি এবং বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, রিয়েলটর ডটকম ও জিলো।   আরটিভি/এসআর
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আরও পড়ুন
হ্যালোইন উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্দুক হামলা, নিহত অন্তত ২৪
ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, শেষ মুহূর্তে যে বার্তা দেন পাইলট
মিসাইলের মতো আছড়ে পড়ল বিমান, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৯
মিশিগানে আবৃত্তিকার সাইফুল আজম সিদ্দিকীর একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘মনের গহীনে বাংলা’