
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট আর মাসিক মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই হয় না। বাড়ি কেনার পর নিয়মিত ও হঠাৎ—দুই ধরনেরই বেশ কিছু অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হয়। এসব খরচ আগে থেকে হিসাব না করলে বাড়ি কেনার পর মাসিক বাজেটে চাপ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি বলছে, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ হিসাব করার সময় মূলধন ও সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির মালিকের বীমা এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ বীমা বিবেচনায় নিতে হবে। অনেক মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে এসব অর্থ প্রতি মাসের কিস্তির সঙ্গে নিয়ে এসক্রো হিসাবে জমা রাখা হয়।
সম্পত্তি কর
বাড়ি কেনার পর নিয়মিত দিতে হয় সম্পত্তি কর। কোন এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত এবং স্থানীয় করের হার কত—তার ওপর এই খরচ নির্ভর করে। ঋণের ধরন অনুযায়ী এই অর্থ মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে জমা হতে পারে, আবার সরাসরি কর কর্তৃপক্ষকেও দিতে হতে পারে।
বাড়ির মালিকের বীমা
বাড়ির ধরন, অবস্থান, বীমার আওতা এবং ওই এলাকার ঝুঁকির ওপর বাড়ির মালিকের বীমার খরচ নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে এই বীমার অর্থও মর্টগেজের সঙ্গে এসক্রো হিসাবে নেওয়া হয়।
মর্টগেজ বীমা
প্রচলিত মর্টগেজ ঋণের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্ট দিলে পিএমআই বা প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। তবে এফএইচএসহ বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচিতে মর্টগেজ বীমার নিয়ম আলাদা।
এইচওএ ফি
কনডোমিনিয়াম, টাউনহোম বা বাড়ির মালিক সমিতির আওতাভুক্ত এলাকায় বাড়ি কিনলে এইচওএ বা বাড়ির মালিক সমিতির ফি দিতে হতে পারে। সাধারণত এই খরচ মর্টগেজের মাসিক কিস্তির মধ্যে থাকে না।
বাড়ি কেনার সময়ের অতিরিক্ত খরচ
ডাউন পেমেন্টের বাইরেও বাড়ি কেনার সময় বেশ কিছু খরচ হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির দামের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, ঋণদাতার খরচ, ঋণের ধরন, বাড়ির ধরন ও অবস্থানের ওপর এই খরচ কমবেশি হতে পারে।
ক্লোজিং কস্টের মধ্যে ঋণদাতার বিভিন্ন ফি, বাড়ির মূল্য নির্ধারণের খরচ, মালিকানা-সংক্রান্ত ফি, সরকারি ফি, অগ্রিম সুদ, বাড়ির মালিকের বীমার প্রাথমিক প্রিমিয়াম এবং এসক্রো হিসাবে জমা দেওয়ার প্রাথমিক অর্থ থাকতে পারে। বাড়ি পরিদর্শনের খরচ অনেক সময় এর বাইরে আলাদাভাবে দিতে হয়।
ঋণদাতা ক্লোজিং কস্ট কমানোর জন্য কিছু অর্থ দিতে পারে। তবে এটিকে সবসময় বিনা খরচের সুবিধা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এর বিনিময়ে সুদের হার বাড়তে পারে, ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের মোট খরচও বেড়ে যেতে পারে।
বাড়ি কেনার পরের নিয়মিত খরচ
বাড়ির মালিক হওয়ার পর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পয়োনিষ্কাশন, ময়লা অপসারণ ও ইন্টারনেটের মতো নিয়মিত খরচ থাকবে। এসব সাধারণত মর্টগেজের কিস্তির মধ্যে থাকে না।
এছাড়া বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্যও অর্থ রাখতে হবে। ছাদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পানির পাইপ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, গরম পানির যন্ত্র কিংবা বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে বড় অঙ্কের খরচ হতে পারে।
তাই বাড়ি কেনার বাজেটের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, স্থানান্তর, আসবাবপত্র এবং ভবিষ্যতের বাড়ির উন্নয়নকাজের জন্যও অর্থ রাখা জরুরি।
আরও যেসব খরচ আসতে পারে
বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি হলে আলাদা বন্যা বীমার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া বাড়ির বয়স, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা এবং অবস্থানের ওপর বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার খরচও কমবেশি হতে পারে।
মাসিক খরচ কীভাবে হিসাব করবেন
প্রথমবার বাড়ি কেনার আগে শুধু মর্টগেজের কিস্তি কত হবে—এটি না দেখে মোট মাসিক আবাসন খরচ হিসাব করা ভালো। এর মধ্যে থাকতে পারে—
ঋণ নেওয়ার আগে লোন এস্টিমেট এবং বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং ডিসক্লোজার ভালোভাবে দেখা উচিত। ক্লোজিং ডিসক্লোজারের তথ্য লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার। সম্পত্তি কর, বীমা বা এইচওএ ফি এসক্রোর মধ্যে আছে কি না, সেটিও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংক বা ঋণদাতা যে পরিমাণ ঋণের জন্য আপনাকে যোগ্য মনে করছে, সেটিই যে আপনার জন্য স্বস্তিদায়ক মাসিক খরচ হবে—এমন নয়। নিজের আয়, অন্যান্য ঋণ, সঞ্চয় ও দৈনন্দিন খরচ বিবেচনা করে বাড়ির মোট মাসিক ব্যয় নির্ধারণ করা উচিত।
আরটিভি/জেএমএ


