
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ধনী মানুষদের ভোগব্যয় কমছে না। বরং দৈনন্দিন খরচ চালাতে অনেকে বিনিয়োগের অর্থ তুলে ব্যবহার করছেন। জেপিমরগ্যান চেজ ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে বিনিয়োগ হিসাব থেকে ব্যাংকের চলতি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করেছিলেন ২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়ে এ হার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।
উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করতেন। ২০২৬ সালে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি বয়সী ও বেশি আয়ের মানুষই বিনিয়োগের অর্থ খরচে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
মার্কিন অর্থনীতিতে ধনী মানুষের ভোগব্যয়ের প্রভাবও বাড়ছে। মুডিজ অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষ দেশটির মোট ভোগব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ করেছেন। সবচেয়ে বেশি আয় করা ২০ শতাংশের অংশ প্রায় ৬০ শতাংশ। একই সময়ে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অংশ ছিল মোট ভোগব্যয়ের ৪৬ শতাংশ।
বিনিয়োগের অর্থের ওপর নির্ভরতা বাড়ার পেছনে শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময়ের মূল্যবৃদ্ধিও বড় কারণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন পরিবার ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের নিট মূল্য ১২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে শেয়ারমূল্য বাড়ার কারণে।
তবে এই প্রবণতার ঝুঁকিও রয়েছে। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হলে বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করার প্রবণতা কমে যেতে পারে। ২০২২ সালে বাজারে বড় পতনের সময় এমনটা দেখা গিয়েছিল। ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে ভোগব্যয় এখন আগের তুলনায় আর্থিক বাজারের ওঠানামার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: দ্য ইউএসএ টুডে
আরটিভি/জেএমএ


