
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনেসোটা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসাবি মেটালিকস আগামী কয়েক বছরে এই কারখানা নির্মাণ করবে। ২০৩০ সালে কারখানাটির উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও মেসাবি মেটালিকসের কর্মকর্তারা প্রকল্পটির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, আইওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরি হতে যাচ্ছে।
কারখানাটি চালু হলে বছরে ৭৫ লাখ টন বা তার বেশি ইস্পাত উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে আইওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৭৫০টি স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
মেসাবি মেটালিকস এখনো আইওয়ার কোন এলাকায় কারখানাটি নির্মাণ করা হবে, তা জানায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, এটি অঙ্গরাজ্যটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এটিই প্রথম এত বড় ইস্পাত কারখানা হতে পারে। ভবিষ্যতে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রকল্পেও এই কারখানার উৎপাদিত ইস্পাত ব্যবহার করা হতে পারে।
কারখানাটির প্রয়োজনীয় লৌহ আকরিক আসবে মিনেসোটা থেকে। মেসাবি মেটালিকস সেখানে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে নতুন একটি লৌহ আকরিক খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প করছে।
যদিও কারখানাটি আইওয়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে, লৌহ আকরিকের উৎস মিনেসোটায় হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে—কেন খনির কাছাকাছি মিনেসোটায় না করে আইওয়ায় কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক জানিয়েছেন, ইস্পাত কারখানাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সহায়তা পাবে না। তবে সরকারের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক মেসাবি মেটালিকসের মিনেসোটার লৌহ আকরিক প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ মেসাবি মেটালিকসের লৌহ আকরিক প্রকল্পের জন্য ৭৭ কোটি ডলারের সরাসরি ঋণ অনুমোদন করে। এর আগে প্রকল্পটিতে সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল।
আইওয়া অঙ্গরাজ্য থেকেও কর ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের বিশেষ অধিবেশনে ফিরতে হতে পারে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মেসাবি মেটালিকসের মালিক ভারতের প্রতিষ্ঠান এসার গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির মিনেসোটা প্রকল্পের ইতিহাস অবশ্য বেশ জটিল।
২০০৮ সালে এসার গ্রুপের এসার স্টিল মিনেসোটা এলএলসি সেখানে বড় একটি লৌহ আকরিক খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করে। দীর্ঘদিনের বিলম্ব, নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে ব্যর্থতা ও আর্থিক সংকটের পর ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করে।
পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি অন্য মালিকানায় যায়। তবে ২০১৯ সাল থেকে এসার গ্রুপ আবার এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত শিল্প বাড়ানোর উদ্যোগ
দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্পাত উৎপাদন বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদেশি ইস্পাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫ সালে ট্রাম্প আমদানি করা ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেন। একই সঙ্গে জাপানের নিপ্পন স্টিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস স্টিল কেনার অনুমোদনও দেন।
এদিকে আইওয়ায় নতুন এই প্রকল্পের ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অঙ্গরাজ্যটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
আরটিভি/জেএমএ


