ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই দফা বিষ প্রয়োগেও মৃত্যু হয়নি, গুরুতর অবস্থায় ক্রিস্টা পাইক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন ক্রিস্টা পাইক।  ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রিস্টা পাইক গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে দুই দফা বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও তার মৃত্যু হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তার আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

পাইকের আইনজীবী র‌্যান্ডাল স্পিভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার শিরায় ওষুধ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে একটি সুচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলেও তিনি জানান।

আইনজীবীদের ভাষ্য, দ্বিতীয় দফায় পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ প্রয়োগের পর পাইকের ডান হাত বেগুনি হয়ে যায়। সুচ ঢোকানোর জায়গাগুলোতে ফোসকা ও জ্বালাপোড়ার চিহ্নও দেখা গেছে বলে তারা জানান।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, পর্দা সরানোর পর পাইক তার হাত নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছে হাতটি যেন ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি ব্যথার কথাও জানান এবং বারবার নড়াচড়া করতে থাকেন।

প্রথম দফা ওষুধ দেওয়ার পরও তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন। দ্বিতীয় দফা ওষুধ দেওয়ার পাঁচ মিনিট পরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে জানান স্পিভি। পরে তাকে কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগারে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছিল।

পাইকের আইনজীবীরা জানান, চিকিৎসকেরা মনে করছেন ভুলভাবে শিরায় সুচ ঢোকার কারণে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ওষুধের পুরো মাত্রা রক্তে পৌঁছায়নি এবং সে কারণেই তিনি শ্বাস নেওয়া ও নড়াচড়া চালিয়ে যেতে পারেন।

চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, সুচ সঠিকভাবে শিরায় না ঢুকলে ওষুধ শরীরের টিস্যুতে জমে ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা ত্বকে লাল ও বেগুনি রঙের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

পাইকের আইনজীবীরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার শিরায় সুচ ঢোকানো কঠিন ছিল। রক্ত নেওয়ার সময়ও তার এমন সমস্যা হতো। এ কারণেই তিনি প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের এই পদ্ধতি নিয়ে ভয় পেতেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অন্য পদ্ধতি চেয়েছিলেন।

আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, পাইকের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণাদায়ক ও মানসিকভাবে ভয়াবহ মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। তার ভাষ্য, মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পাইককে যেতে হয়েছে।

ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। টেনেসির গভর্নর বিল লি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ও স্থগিত করা হয়েছে।

গভর্নর লি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে কারাগারের কর্মকর্তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

টেনেসিতে চলতি বছর এটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে তার শিরায় ওষুধ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে কোলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। পুলিশ জানিয়েছিল, পাইক ও তার দুই কিশোর সহযোগী মিলে স্লেমারকে নির্যাতন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং মারধর করে হত্যা করে।

ওই হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং কয়েক দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। এবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গার্লফ্রেন্ডকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন র‍্যাপার রিক রস
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র‌্যাপার রিক রসকে গার্লফ্রেন্ডকে মারধর ও শ্বাসরোধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
গার্লফ্রেন্ডকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন র‍্যাপার রিক রস
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণ মামলায় নতুন তদন্তকারী নিয়োগ  
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ ও মাদক খাওয়ানোর অভিযোগের তদন্তে স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নিকে সরিয়ে বিশেষ জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণ মামলায় নতুন তদন্তকারী নিয়োগ  
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ভিসার আবেদন করা বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই শুরুর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে ‘আই’ ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আগ্রহী বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ‘আই’ ভিসা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া সহজ করতে আই, টিডি ও টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিকমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত বা দৃশ্যমান রাখতে হবে। তবে আবেদনকারীদের কতদিন আগের অ্যাক্টিভিটি পর্যালোচনা করা হবে, কতদিন প্রোফাইল 'পাবলিক' রাখতে হবে কিংবা কোন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখা হবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই অধিকাংশ ভিসাপ্রার্থীর কাছ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আইডির তথ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আই, টিডি এবং টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার আবেদনকারীদেরও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হলো। টিএন ভিসা মূলত ‘ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্টের’ অধীনে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কানাডা ও মেক্সিকোর পেশাজীবীদের জন্য এবং টিডি ভিসা দেওয়া হয় তাদের স্ত্রী বা নির্ভরশীল সন্তানদের। আরটিভি/এসআর
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী। মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত। এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য প্যাক প্রজেক্ট’ (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন।  সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় ‘ফিড দ্য হোমিস’ (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।  সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আরটিভি/এসআর
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।  ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য।  সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না।  বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
আরও পড়ুন
দুই ডোজ বিষাক্ত ওষুধ দিয়েও মৃত্যু হলো না, বেঁচে রইলেন আসামি
মৃত্যুদণ্ডের আগে টেনেসির একমাত্র নারী আসামির শেষ কথা, ‘আমি শান্তিতে আছি’
নিউইয়র্কের পর এবার টেনেসিতে ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
টেনেসিতে মায়ের জন্মের আগেই ফ্রোজেন ছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর জন্ম নিল এমা!