
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রিস্টা পাইক গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে দুই দফা বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও তার মৃত্যু হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তার আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডাল স্পিভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সুচ ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার শিরায় ওষুধ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে একটি সুচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলেও তিনি জানান।
আইনজীবীদের ভাষ্য, দ্বিতীয় দফায় পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ প্রয়োগের পর পাইকের ডান হাত বেগুনি হয়ে যায়। সুচ ঢোকানোর জায়গাগুলোতে ফোসকা ও জ্বালাপোড়ার চিহ্নও দেখা গেছে বলে তারা জানান।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, পর্দা সরানোর পর পাইক তার হাত নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছে হাতটি যেন ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি ব্যথার কথাও জানান এবং বারবার নড়াচড়া করতে থাকেন।
প্রথম দফা ওষুধ দেওয়ার পরও তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন। দ্বিতীয় দফা ওষুধ দেওয়ার পাঁচ মিনিট পরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে জানান স্পিভি। পরে তাকে কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগারে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়েছিল।
পাইকের আইনজীবীরা জানান, চিকিৎসকেরা মনে করছেন ভুলভাবে শিরায় সুচ ঢোকার কারণে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ওষুধের পুরো মাত্রা রক্তে পৌঁছায়নি এবং সে কারণেই তিনি শ্বাস নেওয়া ও নড়াচড়া চালিয়ে যেতে পারেন।
চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মতে, সুচ সঠিকভাবে শিরায় না ঢুকলে ওষুধ শরীরের টিস্যুতে জমে ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা ত্বকে লাল ও বেগুনি রঙের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
পাইকের আইনজীবীরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার শিরায় সুচ ঢোকানো কঠিন ছিল। রক্ত নেওয়ার সময়ও তার এমন সমস্যা হতো। এ কারণেই তিনি প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের এই পদ্ধতি নিয়ে ভয় পেতেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অন্য পদ্ধতি চেয়েছিলেন।
আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, পাইকের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণাদায়ক ও মানসিকভাবে ভয়াবহ মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। তার ভাষ্য, মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পাইককে যেতে হয়েছে।
ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। টেনেসির গভর্নর বিল লি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ও স্থগিত করা হয়েছে।
গভর্নর লি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে কারাগারের কর্মকর্তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
টেনেসিতে চলতি বছর এটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে তার শিরায় ওষুধ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে কোলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। পুলিশ জানিয়েছিল, পাইক ও তার দুই কিশোর সহযোগী মিলে স্লেমারকে নির্যাতন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং মারধর করে হত্যা করে।
ওই হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং কয়েক দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। এবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ




