
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে শীর্ষ ফেডারেল জজ রজার রোগফকে বরখাস্ত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আটকে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। একই সঙ্গে তাকে আবারও ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মার্কিন জেলা বিচারক স্ট্যানলি বাস্টিয়ান এ আদেশ দেন। তিনি বলেন, জেলা আদালত যে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নিকে নিয়োগ দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন না।
রজার রোগফকে গত ১৫ জুলাই ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার ফেডারেল বিচারকেরা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব গ্রহণের শপথ নেওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন। পরে রোগফ এই বরখাস্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন।
রায়ের সময় বিচারক বাস্টিয়ান বলেন, জেলা আদালতের নিয়োগ দেওয়া একজন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নিকে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে বরখাস্ত করতে পারেন কি না—মামলার মূল প্রশ্ন সেটিই। তার সিদ্ধান্ত হলো, প্রেসিডেন্ট এমনটি করতে পারেন না।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সিনেট অনুমোদিত কোনো নতুন প্রার্থী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রোগফকে তার পদে বহাল রাখতে হবে। তাকে পদ থেকে সরানো, পদটির সুযোগ-সুবিধা বা প্রয়োজনীয় সরকারি সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও প্রশাসনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন চার্লস নিল ফ্লয়েডকে সিয়াটলের দপ্তরের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে বিচারক বাস্টিয়ান বলেছেন, ফ্লয়েড ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি নন এবং ওই পদের দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা তাকে যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি।
বিচারক আরও বলেন, জেলা আদালতের নিয়োগ করা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নিকে প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত করতে পারলে সংবিধান ও আইনে প্রেসিডেন্টের নিয়োগের ক্ষমতা এবং সিনেটের অনুমোদনের ক্ষমতার মধ্যে যে ভারসাম্য রয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে বিচার বিভাগ আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি রায় কার্যকর স্থগিত রাখার জন্য দ্রুত আবেদন করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।
রজার রোগফ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইনের শাসন এবং সংবিধানে নির্ধারিত ক্ষমতার ভারসাম্য তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। এখন পশ্চিম ওয়াশিংটনের মানুষের জন্য কাজ শুরু করার দিকে তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন।
সিয়াটলের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির দপ্তরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে সিনেট অনুমোদিত কোনো স্থায়ী প্রধান ছিলেন না। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করা টেসা গোরম্যানকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এরপর চার্লস নিল ফ্লয়েড অস্থায়ীভাবে দপ্তরটির নেতৃত্ব দেন। তার অস্থায়ী নিয়োগের ১২০ দিনের মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে যায়। পরে তিনি দপ্তরের প্রথম সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কার্যত নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন।
ফেডারেল আইনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির পদ খালি থাকলে প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেল অস্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন। ওই নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট জেলা আদালত নতুন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি নিয়োগ করতে পারে, যতক্ষণ না সিনেট অনুমোদিত কোনো স্থায়ী প্রার্থী দায়িত্ব নেন। এই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করেই ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার বিচারকেরা রোগফকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে নেভাদা, নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সিসহ আরও কয়েকটি এলাকায় পছন্দের প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি পদে বসানোর চেষ্টা করেছে। এসব নিয়োগের কয়েকটি নিয়ে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে। রোগফকে বরখাস্তের ঘটনায় আদালতে চ্যালেঞ্জ করা তিনিই প্রথম বরখাস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


