
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী না হলে ওহাইওকে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কম আগ্রহী থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ওহাইওর ভ্যান্ডালিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে ট্রাম্প ওহাইওর সিনেটর পদপ্রার্থী জন হুস্টেড এবং গভর্নর পদপ্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর পক্ষে ভোট দিতে সমর্থকদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটাররা বের হয়ে ভোট দিলে রিপাবলিকানরা বড় জয় পাবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কড়া ও অশালীন ভাষার আক্রমণও ছিল। তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় থাকলে ওহাইওর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ থাকবে এবং রাজ্যটি কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।
ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হলে তিনি তাদের একইভাবে সহায়তা করতে আগ্রহী থাকবেন না বলেও জানান ট্রাম্প। গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি তাকে সহায়তা করবেন না।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও ট্রাম্প বলেছেন, সমালোচকদের ধারণার চেয়ে রিপাবলিকানরা ভালো ফল করবে।
ওহাইওর সিনেট নির্বাচনও এবারের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। রিপাবলিকান জন হুস্টেডের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন। অন্যদিকে গভর্নর পদে রামাস্বামীর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন।
হুস্টেড আশা করছেন, ট্রাম্পের উপস্থিতি এমন রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে সাহায্য করবে, যারা সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে কম আগ্রহী।
এদিকে, ওহাইওতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধরে রাখা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। গত এক বছরে রাজ্যটিতে পেট্রলের দাম ৩৫ শতাংশ বেড়ে গ্যালনপ্রতি গড়ে ৪ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এ তথ্য জানিয়েছে। কানাডার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির পাল্টা শুল্কও ওহাইওর প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাবেশের বাইরে ১৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক জনাথন স্মিথ জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয় করতে হচ্ছে, কিন্তু জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ায় টাকা জমিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। সিনেট নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি তখনও নেননি।
ওহাইওতে বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়েও ভোটারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এসব তথ্যকেন্দ্র নিয়ে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ এগুলোকে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সমাবেশে ২০ বছর বয়সী শিক্ষানবিশ প্লাম্বার স্যামুয়েল ক্লেভেঞ্জার জানান, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নন। অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সী ব্রেন্ডা হোয়াইট তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমাবেশে সাইনবোর্ড বহন করেন।
ওহাইওর সিনেট নির্বাচনটি এবার দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতোমধ্যে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করেছে বলে সরকারি নথির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/জেএমএ


