
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সরকারি অর্থ আত্মসাতের বড় ধরনের জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। ভুয়া গোপন সরকারি কর্মসূচি তৈরি করে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ সরিয়ে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল বাড়ি ও সোনার বার কেনার অভিযোগে ডেভিড রাশ নামের ওই কর্মকর্তা দোষ স্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা তারের মাধ্যমে জালিয়াতির একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন রাশ। সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি অন্তত ১৯৪ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ সরকারের কাছে বাজেয়াপ্ত করতে সম্মত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৮টি সোনার বার, দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, ৩৫টি বিলাসবহুল ঘড়ি এবং ফ্লোরিডার চারটি বিলাসবহুল বাড়ি। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রাশ একটি ভুয়া গোপন সরকারি কর্মসূচি তৈরি করে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ সরিয়ে নেন। পরে ওই অর্থ দিয়ে ফ্লোরিডার পাম বিচ ও হোব সাউন্ড এলাকায় চারটি বাড়ি কেনেন। সেগুলো পরে বেশি দামে বিক্রি করে লাভ করার পরিকল্পনা ছিল তার।
অন্যদিকে, সোনার বার কেনার জন্য তিনি আলাদাভাবে আরেকটি ভুয়া সংবেদনশীল সরকারি কার্যক্রমের কথা তৈরি করেন। ঠিকাদারদের তিনি জানান, তিনি একটি অত্যন্ত গোপন প্রকল্পে কাজ করছেন, যেখানে অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তির কাছে উচ্চমূল্যের পণ্য পৌঁছে দিতে হবে।
এই কথার ভিত্তিতে জানুয়ারিতে এক ঠিকাদার তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৪৫ মিলিয়ন ডলার পাঠায়। এই অর্থ স্থানান্তরই তারের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগের মূল ভিত্তি। তদন্তকারীরা জানান, রাশ ভুয়া সরকারি অনুমোদন তৈরি করে অর্থ ব্যয়ের নির্দেশ ও অনুমোদন দিতেন। এরপর ঠিকাদার ও উপঠিকাদারদের মাধ্যমে সম্পদ কেনার ব্যবস্থা করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতেন।
রাশের বাড়িতে মে মাসে তল্লাশি চালিয়ে এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের সোনার বার, ২ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করেন। প্রসিকিউটররা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আদালতে জানান, তার নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে তখনও প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ছিল।
প্রসিকিউটরদের নথিতে রাশের সাবেক কর্মস্থল হিসেবে সরাসরি সিআইএর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে আগে সিআইএ ও এফবিআই জানিয়েছিল, সিআইএর পক্ষ থেকে বিষয়টি এফবিআইকে জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে করা প্রথম অভিযোগের নথিতে তাকে পূর্ব ভার্জিনিয়ার একটি সরকারি সংস্থার সাবেক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন সরকারি কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার রাখতেন বলেও জানানো হয়েছে।
রাশকে মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছিলেন, সরকারি চাকরির আবেদনে নিজের শিক্ষা ও সামরিক চাকরি সম্পর্কে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। সামরিক চাকরি শেষ হওয়ার পরও তিনি প্রতারণার মাধ্যমে সামরিক ছুটি নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ ছিল।
জুন মাসে মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন ফেডারেল আদালত। আদালত তাকে গুরুতরভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। ওই শুনানিতে সরকারি আইনজীবীরা রাশকে ‘অসাধারণভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে সক্ষম’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে পাইলট হিসেবে পরিচয় দেওয়া, সহকর্মীদের মিথ্যা বলা এবং নিজের পদমর্যাদা ও সরকারি প্রবেশাধিকার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তিনি দক্ষ ছিলেন।
সরকারের এক আইনজীবী আদালতে বলেন, রাশকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তিনি নিয়ম এড়িয়ে চলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ও সক্ষম।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


