ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলি, গাড়িতে ছিল ৫ বছরের শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
নিউইয়র্কের মার্বেল হিল এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তার গুলির পর ঘটনাস্থল।  ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অভিবাসন কর্মকর্তার (ICE Officer) গুলিতে আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল। বৃহস্পতিবার(৮ অক্টোবর) বিকেলে মার্বেল হিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সচেতন রয়েছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনার সময় তার গাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু ছিল। শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের এক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করতে সেখানে যান অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ বিভাগের কর্মকর্তারা। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে বড় অঙ্কের অর্থ চুরির অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য ছিল বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

বিভাগটির বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের একপর্যায়ে একজন কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়েন এবং ওই ব্যক্তি আহত হন। তবে বিবৃতিতে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চারটি সূত্র ও আদালতের পুরোনো নথির বরাতে তার পরিচয় অস্কার বেলগাল বলে জানা গেছে।

এক জ্যেষ্ঠ আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুলি চালানোর সময় ওই ব্যক্তি গাড়ির ভেতরে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দুটি সূত্রের দাবি, বেলগাল গাড়ি দিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় কর্মকর্তারা গুলি চালান।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অভিবাসন কর্মকর্তারাই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মার্বেল হিল এলাকায় কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির গাড়ি ঘিরে ফেলেছিলেন। গাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। তবে শিশুটি শারীরিকভাবে আহত হয়নি।

স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ বিভাগ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল। কয়েক দিন পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে হামলা, ডাকাতি, মাদক রাখা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিভাগটি। এছাড়া, তার সঙ্গে ত্রিনিতারিওস অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

ঘটনাস্থলে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর সদস্যরা উপস্থিত হন। তবে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ জানিয়েছে, গুলির ঘটনায় তাদের সদস্যরা জড়িত ছিলেন না এবং গুলি চালানোর সময় তারা ঘটনাস্থলেও ছিল না। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি কাছের একটি হাসপাতালে সচেতন অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনার পর মেয়র মামদানি এক বিবৃতিতে এটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কথা হলে নিউইয়র্ক শহরে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ বিভাগের সব অভিযান বন্ধের দাবি জানাবেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং হাসপাতালগুলোতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তামন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করতে গুলির সময় ধারণ করা কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরার সব দৃশ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।

ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ জন রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট দলের। এবার সবচেয়ে বেশি নজর মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, চিকিৎসক ও ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।  নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এল-সায়েদ। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও লড়ছেন পরিচিত মুসলিম রাজনীতিক ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন। পাশাপাশি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মূল নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুসলিম প্রার্থী। তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশিগানের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।  তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নারী। এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা কতটা সাফল্য পান, বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর ভোটারদের। তাদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী, ইতিহাস গড়ার হাতছানি সিনেটে
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউ জার্সিতে বাড়ি কেনার কথা ভাবলেই অনেকের কাছে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। তবে অঙ্গরাজ্যটির কিছু শহর ও আবাসিক এলাকায় এখনো দেড় লাখ ডলার বা তার কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।  কোথাও ছোট আকারের বাড়ি, কোথাও পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি, আবার কোথাও নির্দিষ্ট বয়সীদের জন্য গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে তুলনামূলক কম দামে সম্পত্তি পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১০টি এলাকার কথা তুলে ধরেছে আবাসন ও ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস। তালিকার প্রথমে রয়েছে ওশান কাউন্টির ম্যানচেস্টার টাউনশিপের হোয়াইটিং এলাকা। এখানে ক্রেস্টউড ভিলেজের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে এক ও দুই শয়নকক্ষের ছোট বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কিছু বাড়ির দাম ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের নিচেও থাকতে পারে। এলাকাটি মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও শান্ত পরিবেশে থাকতে আগ্রহীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ক্রেস্টউড ভিলেজের কয়েকটি প্রকল্প ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত। ফলে বাড়ি কেনার আগে বয়সসংক্রান্ত শর্ত, সমবায় মালিকানার নিয়ম এবং মাসিক ফি যাচাই করা জরুরি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিলাডেলফিয়ার কাছের ক্যামডেন শহর। এখানে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি বা রো-হোম পাওয়া যেতে পারে। কিছু বাড়ি বসবাসের উপযোগী অবস্থায় থাকলেও অন্যগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে।  ডেলাওয়্যার নদীর অপর পাশে ফিলাডেলফিয়া হওয়ায় কর্মসূত্রে শহরটিতে যাতায়াতকারীদের জন্য ক্যামডেন ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক। তবে শহরের সব এলাকায় আবাসন পরিস্থিতি এক নয়। তাই বাড়ি কেনার আগে পাড়া, নিরাপত্তা, পরিবহন এবং সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে অবস্থিত ফিলিপসবার্গও কম দামের বাড়ির সম্ভাব্য ঠিকানা হিসেবে প্রতিবেদনে রয়েছে। নিউ জার্সির পশ্চিম প্রান্তের এই শহরে পুরোনো ছোট বাড়ি ও টাউনহোম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  নদীর অপর পাশে পেনসিলভানিয়ার ইস্টন শহর থাকায় বাসিন্দারা দুই এলাকার সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। তবে কম দামের অনেক বাড়িতে সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কেনার আগে কাঠামোগত অবস্থা ও সংস্কারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত আটলান্টিক সিটিও তালিকায় রয়েছে। শহরটির পর্যটন এলাকা থেকে কিছুটা দূরের আবাসিক পাড়ায় ছোট বাংলো ও কন্ডো দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। সমুদ্রসৈকত, বোর্ডওয়াক এবং পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার সুযোগ এ এলাকার আকর্ষণ।  তবে কন্ডো কেনার ক্ষেত্রে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ফি, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিয়ম জানা জরুরি। সম্পত্তির অবস্থান ও মূল্যায়নের ওপর করের পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। ফলে শুধু কেনার দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাসিক ও বার্ষিক ব্যয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত সালেম শহরও সাশ্রয়ী আবাসনের সম্ভাব্য জায়গা। সালেম কাউন্টির এই শহরে পুরোনো একক পরিবারের বড় বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়িতে চার বা তার বেশি শয়নকক্ষ এবং প্রশস্ত বসার জায়গা রয়েছে।  শহরটির ইতিহাস ১৬০০-এর দশক পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রামীণ পরিবেশ, স্থানীয় দোকানপাট ও কৃষিপণ্যের বাজার এখানকার জীবনযাত্রার অংশ। তবে পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ছাদ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন ও ভিত্তির অবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ার কাছাকাছি গ্লুচেস্টার সিটিও তালিকায় রয়েছে। ডেলাওয়্যার নদীর তীরে ক্যামডেনের দক্ষিণে অবস্থিত এ শহরে পুরোনো সারিবদ্ধ বাড়ি ও ছোট কটেজ ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। বেন ফ্র্যাঙ্কলিন ও ওয়াল্ট হুইটম্যান সেতু দিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে এলাকাটি আকর্ষণীয় হতে পারে।  সাম্প্রতিক বাজারের তালিকাতেও গ্লুচেস্টার সিটিতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে বাড়ির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। তবে প্রতিটি বাড়ির অবস্থা ও অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ওশান কাউন্টির লিটল এগ হারবার টাউনশিপে রয়েছে মিস্টিক শোরস নামের আবাসন প্রকল্প। এখানে ছোট আকারের সংযুক্ত বাড়ির দাম প্রায় দেড় লাখ ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন হওয়ায় সব ক্রেতা এখানে বাড়ি কেনার যোগ্য নন।  প্রকল্পটিতে সাধারণ সুবিধা, পরিচর্যা করা উন্মুক্ত জায়গা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে। বারনেগেট বে এবং লং বিচ আইল্যান্ডের সৈকত কাছাকাছি হওয়ায় মাছ ধরা, নৌভ্রমণ ও সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টির বৃহত্তম শহর ভিনল্যান্ডও কম বাজেটের ক্রেতাদের জন্য একটি সম্ভাব্য এলাকা। এখানে একতলা র‌্যাঞ্চ ধরনের বাড়ি ও সংস্কার প্রয়োজন এমন পুরোনো বাড়ি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে। শহরটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, খোলা জায়গা এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার জীবনযাত্রায় আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।  তবে সাম্প্রতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ভিনল্যান্ড অঞ্চলে বাড়ির মধ্যম বিজ্ঞাপিত মূল্য প্রায় ৩ লাখ ডলার। ফলে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি খুঁজতে হলে নির্দিষ্ট কিছু কম দামের বা সংস্কার প্রয়োজন এমন সম্পত্তির দিকে নজর দিতে হবে। নিউ ইয়র্কের কাছাকাছি থাকতে চান, এমন ক্রেতাদের জন্য তালিকায় রয়েছে এসেক্স কাউন্টির ইস্ট অরেঞ্জ। এখানে ছোট স্টুডিও ও এক শয়নকক্ষের কন্ডো ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনজে ট্রানজিটের রেলসেবা ব্যবহার করে ইস্ট অরেঞ্জ থেকে নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনে যাওয়া যায়।  ভবনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে বাইরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাধারণ জায়গার দেখভাল করে। তবে কন্ডো কেনার আগে মাসিক সমিতি ফি, ভবনের আর্থিক অবস্থা এবং মেরামতের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। তালিকার শেষের দিকে রয়েছে বার্লিংটন কাউন্টির পেমবার্টন টাউনশিপের ব্রাউনস মিলস এলাকা। পাইনল্যান্ডস অঞ্চলের বনভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত এই এলাকায় দুই শয়নকক্ষের ছোট কটেজ দেড় লাখ ডলারের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। কাছাকাছি রয়েছে জয়েন্ট বেস ম্যাকগুইয়ার-ডিক্স-লেকহার্স্ট সামরিক ঘাঁটি।  এ কারণে সামরিক বাহিনীর সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং ঘাঁটিতে কর্মরত বেসামরিক ব্যক্তিদের একটি অংশ এলাকায় বসবাস করেন। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হাঁটার পথ, কায়াকিং এবং বনাঞ্চলে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল। তবে তালিকায় থাকা সব এলাকায় দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি সব সময় পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়ির দাম, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির জন্য থাকা সম্পত্তির সংখ্যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।  নিউ জার্সির আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপিত দামের সঙ্গে তালিকার কিছু এলাকার দামের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। তাই সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ির বর্তমান দাম, সম্পত্তি কর, সংস্কার ব্যয়, কন্ডো বা সমবায় ফি এবং বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: মাই ফ্যামিলি ট্রাভেলস, রিয়েলটর ডটকম ও জিলো।   আরটিভি/এসআর
নিউ জার্সিতে দেড় লাখ ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনার সুযোগ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিউ ইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে শোভা পাচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সুপরিচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদের পোশাকে যুক্ত হয়েছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল। এনওয়াইপিডির ইউনিফর্মে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, আবেগ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।  বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি পুলিশ বাহিনীর পোশাক সরবরাহের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে যাওয়া দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বৈশ্বিক সুনামের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিএসবিনিউজের এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাকে বাংলাদেশের নাম থাকার বিষয়টি প্রথম গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্ক সিটির রাজপথে নিয়মিত টহল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ দমনে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন এনওয়াইপিডি সদস্যরা। অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ড ও যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে এই বাহিনীর সদস্যদের বিশেষায়িত পোশাক ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়।  ফলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল থাকা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের পেশাদারি সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার অনন্য প্রমাণ। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সাধারণত আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শার্ট, প্যান্ট কিংবা জ্যাকেটের মতো সাধারণ বাণিজ্যিক পোশাক সেখানে রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে সাধারণ পোশাকের তুলনায় রাষ্ট্রীয় কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর ইউনিফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে বাড়তি গুণগত মান ও সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করছেন, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খোদ এনওয়াইপিডিতে কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। যে শহরের সুরক্ষায় প্রবাসীরা অবদান রাখছেন, সেই শহরের মূল পুলিশ সদস্যদের পোশাকে নিজ দেশের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সাধারণ প্রবাসীরা। এনওয়াইপিডির সুনির্দিষ্ট কোন ধরনের পোশাকে এই লেবেল রয়েছে বা ঠিক কত পরিমাণ পোশাকের চালান বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়নি। তবে বিশেষায়িত কর্মক্ষেত্রের এই সরবরাহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।   আরটিভি/এসআর
নিউ ইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে শোভা পাচ্ছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল
নিউ ইয়র্কে রোববার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে যা জানা দরকার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের খরচ কমানোর সুযোগ রয়েছে, যদি চালকেরা নির্দিষ্ট সময় ও পার্কিংয়ের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকেন। শহরের মিটারযুক্ত পার্কিং স্পটগুলোতে সাধারণত রবিবার পার্কিং ফি দিতে হয় না। পাশাপাশি অনেক আবাসিক এলাকায় মিটারবিহীন স্ট্রিট পার্কিংয়ের সুযোগ রয়েছে।  তবে ফ্রি পার্কিং মানেই সব ধরনের পার্কিং নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় নয়। রাস্তার সাইনবোর্ড ও নির্ধারিত নিয়ম না মানলে জরিমানা কিংবা গাড়ি টো করার ঝুঁকি রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন এবং এনওয়াইসি ৩১১-এর পার্কিং নির্দেশনা অনুযায়ী, শহরের পার্কিং মিটারগুলো রোববার কার্যকর থাকে না। ফলে যেসব জায়গায় অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, সেখানে রোববার মিটার ফি ছাড়াই গাড়ি রাখা যায়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নো স্ট্যান্ডিং, নো স্টপিং কিংবা অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা মেনে চলতে হবে। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানো বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ম্যানহাটন, কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বসবাসকারী কিংবা কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা পার্কিংয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেন। ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় গ্যারেজের খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকে স্ট্রিট পার্কিংয়ের ওপর নির্ভর করেন। সঠিক নিয়ম জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় পার্কিং ফি এড়ানো সম্ভব। শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত রাস্তা পরিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশ থেকে গাড়ি সরিয়ে রাখতে হয়। কোন দিন এবং কতক্ষণ এই নিয়ম কার্যকর থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ডে উল্লেখ থাকে। এএসপি কার্যকর থাকা অবস্থায় নিয়ম না মানলে চালককে পার্কিং টিকিট দেওয়া হতে পারে। রোববার সাধারণত নিউইয়র্ক সিটিতে অল্টারনেট সাইড পার্কিং কার্যকর থাকে না। তবে এটি অন্যান্য পার্কিং বিধিনিষেধ বাতিল করে না। একইভাবে শহরের নির্ধারিত ছুটির দিনগুলোতে এএসপি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও সব ছুটিতে মিটার পার্কিং ফ্রি হয় না।  ফলে কোনো ছুটির দিনে গাড়ি পার্ক করার আগে সেদিন মিটার ও অন্যান্য পার্কিং বিধিনিষেধ কার্যকর আছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিউ ইয়ার্স ডে, মেমোরিয়াল ডে, ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে, লেবার ডে, থ্যাংকসগিভিং ডে এবং ক্রিসমাস ডের মতো প্রধান ছুটির দিনগুলোতে নিউইয়র্ক সিটির পার্কিং নিয়মে বিশেষ ছাড় থাকে।  এসব দিনে এএসপি স্থগিত থাকার পাশাপাশি মিটার পার্কিং এবং নির্দিষ্ট স্ট্রিট ক্লিনিং বিধিনিষেধেও ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সব ধরনের নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং বা নো স্টপিং নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। রোববারের বাইরে ফ্রি পার্কিংয়ের আরেকটি উপায় হলো মিটারবিহীন আবাসিক রাস্তা খুঁজে নেওয়া। ম্যানহাটনের ইনউড, ওয়াশিংটন হাইটস এবং ব্রুকলিনের বে রিজসহ বিভিন্ন এলাকায় মিটারবিহীন স্ট্রিট পার্কিং পাওয়া যেতে পারে। কুইন্স ও ব্রঙ্কসের অনেক আবাসিক এলাকাতেও একই ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাস্তার সব ব্লকে কিংবা সব সময় ফ্রি পার্কিং পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে ইনউডের ওয়েস্ট ২১৮তম স্ট্রিট, ওয়াশিংটন হাইটসের ১৮৭তম স্ট্রিট এবং বে রিজের ৭২তম স্ট্রিটের মতো এলাকায় পার্কিং খোঁজার আগে স্থানীয় সাইনবোর্ড যাচাই করা জরুরি। একই রাস্তার এক ব্লকে মিটার না থাকলেও পাশের ব্লকে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। রাস্তা পরিষ্কার, নির্মাণকাজ, স্কুল জোন কিংবা অন্যান্য কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পার্কিং নিষিদ্ধ থাকতে পারে। নিউইয়র্কে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ফায়ার হাইড্র্যান্টের নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের দুই পাশে ১৫ ফুটের মধ্যে গাড়ি পার্ক করা যায় না। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে লাইসেন্সধারী চালক গাড়ির ভেতরে থেকে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার শর্তে সাময়িকভাবে দাঁড়াতে পারেন। নিয়ম না মেনে গাড়ি রেখে চলে গেলে জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় একই স্থানে টানা সাত দিনের বেশি গাড়ি পার্ক করে রাখা নিষিদ্ধ। গাড়িটি মিটারবিহীন কোনো বৈধ পার্কিং স্পটে রাখা হলেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের জন্য গাড়ি রেখে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। রাতের পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও সময়ভিত্তিক সাইনবোর্ড গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় রাত দুইটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত নো পার্কিং নির্দেশনা থাকলে ওই সময় গাড়ি রাখা যাবে না। তবে বাকি সময় পার্কিং বৈধ কি না, তা নির্ভর করবে একই স্থানে থাকা অন্যান্য নির্দেশনার ওপর। শুধু একটি নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হয়েছে বলেই জায়গাটি ফ্রি বা সীমাহীন সময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়ে যায় না। যারা নিয়মিত ম্যানহাটনে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য পার্ক অ্যান্ড রাইড ব্যবস্থা খরচ কমানোর একটি বিকল্প হতে পারে। শহরের বাইরে বা ট্রানজিট স্টেশনের কাছে গাড়ি রেখে বাস কিংবা ট্রেনে গন্তব্যে যাওয়া যায়। নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন পার্ক অ্যান্ড রাইড লোকেশনে বিনামূল্যে পার্কিংয়ের সুযোগ থাকলেও সব জায়গায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো স্থানে সময়সীমা, পারমিট কিংবা নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা শর্ত থাকতে পারে। নিউ জার্সির হোবোকেন ও জার্সি সিটি থেকেও পাথ ট্রেনে ম্যানহাটনে যাতায়াত করা যায়। তবে এসব এলাকার পার্কিং স্পট সব সময় সস্তা বা বিনামূল্যের নয়। গ্যারেজের ফি, স্ট্রিট পার্কিংয়ের নিয়ম এবং ট্রেনভাড়া হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ম্যানহাটনের বাইরে গাড়ি রাখলেই খরচ কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পার্কিংয়ের নিয়ম যাচাই করতে এনওয়াইসি ৩১১ এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা যায়। এনওয়াইসি ৩১১ থেকে অল্টারনেট সাইড পার্কিং স্থগিত থাকার ঘোষণা এবং ছুটির দিনের নিয়ম জানা যায়। পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ মূলত নির্ধারিত মিটার পার্কিংয়ের ফি পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে স্পটহিরো ও বেস্টপার্কিংয়ের মতো সেবায় বিভিন্ন পেইড পার্কিংয়ের বিকল্প ও মূল্য তুলনা করা যায়। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা নিয়মভেদে ভিন্ন হয়। সব ধরনের ভুল পার্কিংয়ের জন্য একই অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয় না। কোথাও নির্ধারিত সময়ের বেশি গাড়ি রাখা, কোথাও স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের নিয়ম ভঙ্গ করা কিংবা নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের কারণে আলাদা অঙ্কের টিকিট দেওয়া হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে গাড়ি টো করার অতিরিক্ত খরচও যোগ হতে পারে। নিউইয়র্কে গাড়ি ব্যবহারকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পার্কিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সব সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়া, রোববার ও ছুটির দিনের নিয়ম যাচাই করা এবং এএসপি সাসপেনশনের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নেওয়া। এতে পার্কিং খরচ কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আরটিভি/এসআর
নিউ ইয়র্কে রোববার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে যা জানা দরকার
চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ শিখে চমক দেখালেন মার্কিন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এক তরুণী। অফিসের নিয়মিত চাকরি ছেড়ে তিনি দেশটির বিখ্যাত ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।  ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি মেক ইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার এই পেশা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, তরুণী আগে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কিন্তু সেই পেশায় না থেকে তিনি সেলাইয়ের কাজকে নতুন কর্মজীবন হিসেবে বেছে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জাতীয় উদ্যান ইয়েলোস্টোনে তার এই পেশা পরিবর্তনের গল্প প্রকাশ করেছে সিএনবিসি। তবে তিনি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন, কত বেতন পেতেন এবং নতুন কাজে তার আয় কত, তা প্রকাশিত শিরোনাম থেকে জানা যায়নি। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং, মন্টানা ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ, গিজার, পাহাড়, বনভূমি এবং বন্য প্রাণীর জন্য পরিচিত এই জাতীয় উদ্যানে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। পর্যটনকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক কার্যক্রমের কারণে পার্কটি ঘিরে নানা ধরনের কর্মসংস্থানও রয়েছে। সেলাইয়ের কাজ বলতে শুধু নতুন পোশাক তৈরি বোঝায় না। পোশাকের মাপ ঠিক করা, ছেঁড়া কাপড় মেরামত, ইউনিফর্মের পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড়ের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করাও এই পেশার অন্তর্ভুক্ত। তবে সিএনবিসির প্রতিবেদনে আলোচিত তরুণী ইয়েলোস্টোনে ঠিক কী ধরনের সেলাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট চাকরি থেকে কারিগরি বা হাতে-কলমে কাজের পেশায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আয়, কাজের পরিবেশ, দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।  নতুন পেশায় যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় চাকরির ক্ষেত্রে মৌসুমি ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। সিএনবিসির প্রতিবেদনে তুলে ধরা এই তরুণীর অভিজ্ঞতা প্রচলিত করপোরেট চাকরির বাইরে ভিন্ন ধরনের পেশা বেছে নেওয়ার একটি উদাহরণ। তবে মূল প্রতিবেদনের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া না যাওয়ায় তার নাম, চাকরি ছাড়ার নির্দিষ্ট কারণ, নতুন বেতন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আরটিভি/এসআর
চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ শিখে চমক দেখালেন মার্কিন তরুণী