
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র্যাপার টুপাক শাকুর হত্যার ঘটনায় ডুয়েন ‘কেফে ডি’ ডেভিসকে ৪০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৯৯৬ সালে লাস ভেগাসে টুপাককে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে ৬৩ বছর বয়সী ডেভিসের এই সাজা হয়। হত্যাকাণ্ড থেকে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে সাজার সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে আরও ২০ বছরের শাস্তি যুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাজা ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন টুপাকের ছোট বোন সেকিয়াওয়া শাকুর। ভাইকে স্মরণ করে তিনি বলেন, টুপাক শুধু একজন জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন না, পরিবারের রক্ষক ও তার কাছে বাবার মতো একজন মানুষ ছিলেন। তার মতে, টুপাকের মতো একজন মানুষকে হারানোর জন্য ডেভিসের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।
সেকিয়াওয়া বলেন, টুপাক জন্ম থেকেই একজন আইকন ছিলেন। তাকে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। পরিবার ও বন্ধুদের রক্ষা করতেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের বাইরেও পুরো সমাজের কাছে তার গুরুত্ব বেড়েছিল।

ডেভিসের উদ্দেশে তিনি বলেন, কাউকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে, তার জীবন কেড়ে নিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—বিশেষ করে সেই মানুষটি যখন টুপাক শাকুর।
গত আগস্টে ডেভিসকে বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথম ডিগ্রির হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন জুরিরা। মাত্র তিন ঘণ্টারও কম সময় আলোচনার পর তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান। দুই সপ্তাহের বিচার চলাকালে ডেভিসের নিজের দেওয়া সাক্ষাৎকার ও আত্মজীবনীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে।
মামলার সরকারি আইনজীবীদের দাবি, হত্যার রাতেই ডেভিসের ভাগনে অরল্যান্ডো ‘বেবি লেন’ অ্যান্ডারসনের সঙ্গে টুপাকের সংঘর্ষ হয়েছিল। এর জেরেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। তবে ডেভিস নিজে গুলি চালিয়েছিলেন—এমন অভিযোগ ছিল না। আইনজীবীদের দাবি, তিনি হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করেন এবং হামলার পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখেন।
সাজা ঘোষণার দিন হাতকড়া পরা অবস্থায় নীল কারাবন্দির পোশাকে আদালতে হাজির হন ডেভিস। টুপাকের পরিবারসহ আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে কিছু বলতে চান কি না, বিচারক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক আছি।’ এরপর আর কিছু বলেননি।
ক্লার্ক কাউন্টির প্রধান সহকারী সরকারি আইনজীবী বিনু পালাল ডেভিসের আগের পাঁচটি দণ্ড এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার প্রকাশ্যে গর্ব করার বিষয়টি তুলে ধরে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার আবেদন জানান। তার মতে, নিজের কাজ ও আচরণের কারণে ডেভিস সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য।
টুপাক হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ডেভিসই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর মারা যান টুপাক। ওই রাতে গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন সংগীত প্রযোজক সুজ নাইট। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, তবে প্রাণে বেঁচে যান।
টুপাক হত্যার ঘটনা প্রায় তিন দশক ধরে রহস্য হয়ে ছিল। সে সময় তদন্তকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের দুই সংগীতজগতের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের বিষয়টি সামনে আনেন। টুপাকের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ডেভিসের সহযোগীদের বিরোধও তদন্তে উঠে আসে। তবে তদন্তকারীরা দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাননি।
২০১৯ সালে ডেভিসের আত্মজীবনী ‘কম্পটন স্ট্রিট লেজেন্ড’ প্রকাশের পর মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। বইটিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন এবং নিজেকে সাউথ সাইড ক্রিপস দলের একজন প্রভাবশালী সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে, টুপাকের সংগীত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী মোব পিরু দল।
বিচার চলাকালে সরকারি আইনজীবী পালাল দাবি করেন, লাস ভেগাসের একটি হোটেলে টুপাক ও সুজ নাইটকে ডেভিসের ঘনিষ্ঠজন অ্যান্ডারসনকে মারধর করতে দেখার পর ডেভিস তাদের খুঁজতে বের হন। পরে টুপাককে গুলি করা হয়।
টুপাকের মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস পর নিউইয়র্কের র্যাপার ক্রিস্টোফার ওয়ালেস, যিনি নোটোরিয়াস বিআইজি বা বিগি নামে পরিচিত, খুন হন। তবে ওই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


