
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। এ জন্য প্রয়োজন হবে আবেদন গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা থেকে পাঠানো নোটিশে থাকা রিসিট নম্বর। সরকারি ওয়েবসাইটে নম্বরটি ব্যবহার করে আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিকসের সময় নির্ধারণ, আবেদন অনুমোদন এবং কার্ড পাঠানোর মতো বিভিন্ন তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার অনলাইন সেবাটি ব্যবহার করতে কোনো ফি দিতে হয় না। আবেদনকারীদের প্রথমে সংস্থার সরকারি ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এরপর নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘স্ট্যাটাস যাচাই’ বোতামে ক্লিক করলে আবেদনের সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে।
রিসিট নম্বরটি সাধারণত ১৩টি অক্ষর ও সংখ্যা দিয়ে তৈরি হয়। এর শুরুতে থাকে তিনটি ইংরেজি অক্ষর, এরপর থাকে ১০টি সংখ্যা। নম্বরের শুরুতে আইওই, এসআরসি, এলআইএন, ইএসি, ডব্লিউএসি, এনবিসি ও এমএসসির মতো অক্ষর থাকতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে এই নম্বর পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে।
আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে সরকারি ওয়েবসাইটের নির্ধারিত পাতায় যেতে হবে। সেখানে রিসিট নম্বর লিখে অনুসন্ধান করলে সংশ্লিষ্ট আবেদনের তথ্য দেখা যাবে। স্ট্যাটাসে ‘আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে’ দেখালে বুঝতে হবে, আবেদনটি সংস্থা গ্রহণ করেছে। ‘বায়োমেট্রিকসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে’ দেখালে আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য সময় ঠিক করা হয়েছে। আর ‘আবেদন অনুমোদিত হয়েছে’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যাবে। তবে সব আবেদনের প্রক্রিয়া এক রকম নয়। তাই প্রদর্শিত বার্তাটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।
আবেদনসংক্রান্ত আরও তথ্য পেতে আবেদনকারীরা সংস্থার অনলাইন হিসাবও ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে হিসাব তৈরি করে অথবা আগে থেকে থাকা হিসাবে প্রবেশ করে নিজের আবেদন যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে আবেদনের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ ও বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী অনলাইনে পাওয়া তথ্য এবং সুবিধার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। হিসাব খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে অনলাইন স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কার্ডের অগ্রগতি দেখার জন্য অনুসরণ নম্বরও পাওয়া যেতে পারে। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে কার্ড কোথায় রয়েছে, তা জানা সম্ভব। তবে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখানোর পরও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে সংস্থার ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় অনুসন্ধান করা যায়।
অনলাইনে আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। শ্রবণ বা বাক্সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩ নম্বর। স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।
তবে আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানা আর আবেদন সম্পন্ন হতে কত দিন লাগবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র ও শ্রেণি অনুযায়ী সংস্থার প্রক্রিয়াকরণের সময়সংক্রান্ত সেবা থেকে আনুমানিক সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে অনুসন্ধান জমা দিতে পারেন। শুধু স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না কিংবা কবে গ্রিন কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
আবেদনকারীদের রিসিট নম্বরের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। নম্বরটি ব্যক্তিগত আবেদনের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করে শুধু সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা উচিত। সংস্থার নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট কিংবা অর্থের বিনিময়ে আবেদনের অবস্থা জানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব এড়িয়ে চলতে হবে। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS - Case Status Online ও Contact Center), যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।
আরটিভি/জেএমএ




