
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা তার স্ত্রী ও মেয়েকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে তদন্তকারীরা। নিহত স্ত্রী অ্যান ম্যানিক্স ছিলেন পুলিশের সাবেক উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ) এবং কর্মজীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে শহরের উত্তরে মেরিন কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কেভিন ম্যানিক্স, ৬৮, তার স্ত্রী অ্যান ম্যানিক্স, ৬৪, এবং তাদের ২৪ বছর বয়সী মেয়ে ক্যাথরিন এলিজাবেথ ম্যানিক্স।
মেরিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, কেভিন প্রথমে তার স্ত্রী ও মেয়েকে গুলি করেন, এরপর নিজেও গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরুরি নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ওই বাড়িতে যায়। ফোনকারী নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে কেন কেভিন এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এখনো জানতে পারেননি তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তিনজনেরই ময়নাতদন্ত করার কথা ছিল। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এদিকে, সহকর্মীদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ কর্মকর্তা সমিতি। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সাবেক উপপ্রধান অ্যান ম্যানিক্স, তার মেয়ে কেটি এবং সাবেক সার্জেন্ট কেভিন ম্যানিক্সের মৃত্যু পুরো পুলিশ পরিবারকে গভীর শোকে আচ্ছন্ন করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার কষ্ট ও প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
কেভিন ম্যানিক্স সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগে ২৭ বছর কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে সার্জেন্ট পদে থাকা অবস্থায় তিনি অবসরে যান। তবে পুলিশ বিভাগে অ্যান ম্যানিক্সের অবদান ছিল আরও বিস্তৃত।
অ্যান ম্যানিক্স সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া চতুর্থ প্রজন্মের বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও আগে পুলিশে কাজ করেছেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। সে সময় নারীদের টহল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরুর এক দশকের কিছু বেশি সময় পেরিয়েছে।
কর্মজীবনে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০০৩ সালে লেফটেন্যান্ট, ২০১৫ সালে কমান্ডার এবং ২০১৮ সালে উপপ্রধান হন অ্যান। ২০২১ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান বিভাগ পরিচালনা করেন।
পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান ছিলেন বিভাগের বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল দলের প্রথম নারী সদস্য। পরবর্তী সময়ে তিনি দলটির নেতৃত্বও দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তার এই অর্জন তাকে বিভাগের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ




