
বিশ্বখ্যাত নারী বৈমানিক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের নিখোঁজ বিমানের রহস্যের সমাধান কয়েক দিনের মধ্যেই মিলতে পারে বলে আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপের কাছে বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছেন তারা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিভ শুলৎজ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ইনস্টিটিউটের রিচার্ড পেটিগ্রিউয়ের নেতৃত্বে গবেষক দলটি অনুসন্ধান শুরু করে। তাদের ধারণা, সেখানে ইয়ারহার্টের নিখোঁজ লকহিড ইলেকট্রা ১০-ই মডেলের বিমানের ধ্বংসাবশেষ থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে পেটিগ্রিউ বলেন, ইয়ারহার্টের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুলৎজ জানান, তারা এখনো তথ্য সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছেন।
গবেষকেরা কিরিবাতির নিকুমারোরো দ্বীপের উপকূলসংলগ্ন একটি অগভীর জলাশয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ‘তারাইয়া অবজেক্ট’ নামে পরিচিত একটি রহস্যময় বস্তু। ১৯৩৮ সাল থেকে তোলা আকাশপথের বিভিন্ন ছবিতে বস্তুটির অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা গেলেও ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো উপগ্রহচিত্রে বিষয়টি গবেষকদের নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে ওই ছবিই নতুন অনুসন্ধান অভিযানের পরিকল্পনা করতে উৎসাহ জোগায়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনুসন্ধানের কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে গবেষকেরা আশা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বস্তুটি আসলে কী, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
অনুসন্ধানস্থলটি এতটাই দুর্গম যে ১৭ সদস্যের গবেষক দলটির সেখানে পৌঁছাতে সমুদ্রে পাঁচ দিন যাত্রা করতে হয়েছে।
পেটিগ্রিউ জানান, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর জলাশয়ের তলদেশের পলি সরাতে জলচালিত বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বস্তুটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
১৯৩৭ সালের ২ জুলাই পৃথিবীর নিরক্ষরেখা বরাবর উড়ে বিশ্বভ্রমণ সম্পন্ন করার প্রচেষ্টার সময় নিখোঁজ হন অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট ও তার সহকারী নাবিক ফ্রেড নুনান। তাদের যাত্রাপথের প্রায় ২২ হাজার মাইল অতিক্রম করার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিকুমারোরো দ্বীপটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতির অংশ। অস্ট্রেলিয়া ও হাওয়াইয়ের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত এই দ্বীপটি হাউল্যান্ড দ্বীপের প্রায় ৪০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। গবেষকদের ধারণা, বিশ্বভ্রমণের ওই অভিযানে হাউল্যান্ড দ্বীপই ছিল ইয়ারহার্ট ও নুনানের শেষ গন্তব্য।
দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিশ্বের অন্যতম রহস্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। গবেষক পেটিগ্রিউয়ের ভাষ্য, এ ধরনের অনুসন্ধানের জন্য তাদের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পূর্ণ নতুন।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


