
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিখ্যাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বোস্টন ইউনিভার্সিটি উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন কর্মসূচি ‘বিইউ প্রমিজ’ এর ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম, তাদের সন্তানরা টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আর্থিক সহায়তা। পরিবারের আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এসব সুবিধা নির্ধারণ করা হবে।
ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের যোগ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি সম্পূর্ণ বহন করবে। পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশও আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবে। ফলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে শিক্ষাবাবদ বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার দিতে হবে। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে এবং ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার আয়ের পরিবারের জন্য ১০ হাজার ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলারে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম আয়ের পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহনের এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করছে।
তবে এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বিইউ প্রমিজ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, যারা প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবেন। স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পাশাপাশি পরিবারের আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সম্পদ এবং নিজস্ব বাড়ি ছাড়া অন্যান্য স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হবে। তাই শুধু আয়ের সীমা পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য আবেদনপত্র (এফএএফএসএ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক তথ্যসংক্রান্ত আবেদনপত্র (সিএসএস প্রোফাইল) জমা দিতে হবে। প্রথম বর্ষে আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি সহায়তা চার বছর পর্যন্ত বজায় রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। টিউশন ফি বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির পরিমাণও একই হারে বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল নিয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনায় এই ধরনের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও সম্পদের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/ এসকেডি


