ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ বাড়ল, নিয়োগে ফিরছে গতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে চাকরির শূন্য পদ বেড়ে ৭৫ লাখে পৌঁছেছে, যা দেশটির শ্রমবাজারে নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে চাকরির শূন্য পদ বেড়ে ৭৫ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণে নিয়োগ কার্যক্রমেও গতি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত দেশটির শ্রম বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে চাকরির শূন্য পদ ছিল সংশোধিত হিসাবে ৭১ লাখ ৯০ হাজার। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৭৫ লাখে পৌঁছেছে। চলতি বছরের মার্চে এই সংখ্যা নেমে এসেছিল ৬৯ লাখে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে নতুন কর্মী নিয়োগ বেড়েছে এবং কর্মী ছাঁটাই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ মাসে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪০ হাজারে, যা ২০২৫ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে, স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন ৩৩ লাখ ৭০ হাজার কর্মী। গত ১৮ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৪০ হাজার। সাধারণত নতুন চাকরির সুযোগ নিশ্চিত হওয়া কিংবা নতুন কাজ পাওয়ার আত্মবিশ্বাস থাকলেই কর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েন। তাই এ প্রবণতাকে শ্রমবাজারের ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে চাকরির বাজারে প্রকৃত উন্নতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আগামী কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রায় তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ কার্যক্রমে ধীরগতি চলছে। ছাঁটাইয়ের হারও ঐতিহাসিকভাবে কম থাকায় চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মরত ব্যক্তিরা চাকরির নিরাপত্তা পেলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের কাজ পাওয়া কঠিন হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দেশটির সরকার। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরে নতুন করে ৬৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় কম কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও বেকারত্বের হার নিচে রাখা সম্ভব হচ্ছে।


সূত্র: এবিসি নিউজ


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস।
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ডেব হাল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ইলহান ওমর।
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ব্র্যাকে চাকরির সুযোগ, বেতন ছাড়াও রয়েছে নানান সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
ঢাকাসহ ৬ জেলায় চাকরি দেবে আরএফএল গ্রুপ, লাগবে যে যোগ্যতা