
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে চাকরির শূন্য পদ বেড়ে ৭৫ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার কারণে নিয়োগ কার্যক্রমেও গতি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত দেশটির শ্রম বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে চাকরির শূন্য পদ ছিল সংশোধিত হিসাবে ৭১ লাখ ৯০ হাজার। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৭৫ লাখে পৌঁছেছে। চলতি বছরের মার্চে এই সংখ্যা নেমে এসেছিল ৬৯ লাখে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে নতুন কর্মী নিয়োগ বেড়েছে এবং কর্মী ছাঁটাই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ মাসে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪০ হাজারে, যা ২০২৫ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন ৩৩ লাখ ৭০ হাজার কর্মী। গত ১৮ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৪০ হাজার। সাধারণত নতুন চাকরির সুযোগ নিশ্চিত হওয়া কিংবা নতুন কাজ পাওয়ার আত্মবিশ্বাস থাকলেই কর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েন। তাই এ প্রবণতাকে শ্রমবাজারের ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে চাকরির বাজারে প্রকৃত উন্নতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আগামী কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রায় তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ কার্যক্রমে ধীরগতি চলছে। ছাঁটাইয়ের হারও ঐতিহাসিকভাবে কম থাকায় চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মরত ব্যক্তিরা চাকরির নিরাপত্তা পেলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের কাজ পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দেশটির সরকার। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরে নতুন করে ৬৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় কম কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও বেকারত্বের হার নিচে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


