
ফরিদপুরের সদরপুরে এক ব্যক্তিকে ফাঁসাতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিথ্যা মামলা করার দায়ে এক গৃহবধূ ও তার স্বামীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ড পাওয়া দম্পতি হলেন সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের ওয়াজ হাওলাদারের ডাঙ্গী গ্রামের রিনা আক্তার (৩৫) ও তার স্বামী মাসুদ বেপারী (৪২)।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একই এলাকার জয়নাল হাওলাদারের (৪৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলেন রিনা আক্তার। পরে ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন তিনি।
মামলার এজাহারে রিনা অভিযোগ করেন, ২৮ আগস্ট রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হওয়ার পর জয়নাল তাকে পেছন থেকে ধরে ফেলেন। পরে মুখ চেপে ধরে একটি ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর বুধবার সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হন বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারী। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার অভিযোগের সঙ্গে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে মামলাটি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
পরে আদালত মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় রিনা আক্তার ও মাসুদ বেপারীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাদের দুজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাদী ও তার স্বামীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ধরনের রায় মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
আরটিভি/এসএস




