
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদরাসাশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার এ আদেশ দেন।
মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়ার ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন জানান, উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী শরিফুল আলম এ আদেশে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার মক্কেল নির্দোষ। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তা প্রমাণ করবেন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর মাদরাসার প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে যৌন হয়রানি করেন বলে উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে। পরে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে ঘটনা জানায় শিশুটি।
পরদিন ২১ অক্টোবর সকালে শিশুটির বাবা জালাল উদ্দিন রুমী মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাব চান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
এ সময় শিশুটির অভিভাবকের অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গাজীপুরের আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদরাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরটিভি/এমএইচজে



