ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্যান কেনার আগে জেনে নিন ৫ জরুরি বিষয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

গরম পড়তে শুরু করলেই বাড়ে ফ্যানের চাহিদা। তীব্র গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে অনেকেই এই সময় নতুন ফ্যান কেনার কথা ভাবেন। বাজারে গেলেই দেখা যায় নানা ব্র্যান্ড, মডেল ও দামের অসংখ্য ফ্যান। তবে শুধু দাম দেখে ফ্যান কিনলে পরে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্যান কেনার সময় শুধু বাতাস পাওয়া যাচ্ছে কি না তা খেয়াল করলেই হবে না। সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শব্দ এবং ওয়ারেন্টির বিষয়েও নজর দেওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য জেনে ফ্যান কিনলে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, তেমনি ফ্যানও দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

বাজারে বাড়ছে ফ্যানের চাহিদা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর রিংরোডের হোলসেল ইলেকট্রনিক্স সিটির কর্নধার ফয়সাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, গ্রীষ্ম এলেই ফ্যানের বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। তার ভাষায়, এখন ফ্যান শুধু বাতাস দেওয়ার যন্ত্র নয়। আধুনিক ডিজাইন ও প্রযুক্তির কারণে এটি ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ায়। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির কারণে বিদ্যুৎ খরচও অনেক কম হয়। ফলে ক্রেতারা এখন শুধু দাম নয়, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার দিকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কি না দেখুন

ফ্যান কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যুৎ খরচ। পুরোনো মডেলের অনেক ফ্যানে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হয়। বর্তমানে বাজারে বিএলডিসি প্রযুক্তির ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে। যা সাধারণ ফ্যানের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। এসব ফ্যান কম গরম হয় এবং শব্দও কম করে। দেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির ফ্যান বাজারে এনেছে। যা ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ঘরের জন্য কোন ফ্যান ভালো?

সব ফ্যান সব জায়গার জন্য উপযুক্ত নয়। ঘরের আকার, ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান নির্বাচন করা উচিত।

সিলিং ফ্যান: সাধারণত ড্রয়িংরুম বা বেডরুমের জন্য উপযোগী। এটি পুরো ঘরে সমানভাবে বাতাস ছড়িয়ে দেয়।

স্ট্যান্ড ফ্যান: ছোট ঘর বা রান্নাঘরের জন্য ভালো। সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়।

রিচার্জেবল ফ্যান: লোডশেডিংয়ের সময় বেশ উপকারী। একবার চার্জ দিলে ৪ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে।

ওয়াল ফ্যান: ঘরে জায়গা কম হলে দেওয়ালে লাগানো যায়। দোকান বা ছোট ঘরের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।

আরও পড়ুন

নতুন প্রযুক্তির সুবিধা

এখনকার ফ্যানে শুধু বাতাস নয়, যুক্ত হয়েছে নানা আধুনিক প্রযুক্তিও। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রনি হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ফ্যান কেনার আগে এর ফিচারগুলো বুঝে নেওয়া জরুরি। বর্তমানে অনেক ফ্যানে স্মার্ট অপারেটিং সিস্টেম, ভয়েস কমান্ড, রিমোট কন্ট্রোল, সেন্সর সিস্টেম এবং টাচ সুইচিং সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যবহার আরও সহজ ও আধুনিক হয়ে উঠেছে।

দাম ও ওয়ারেন্টি গুরুত্বপূর্ণ

ফ্যান কেনার সময় ওয়ারেন্টির বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রাজধানীর কারওয়ানবাজার ইলেকট্রিক মার্কেটের ব্যবসায়ী হাছানাৎ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বাজারে ফ্যানের দাম মডেল ও ব্র্যান্ড অনুযায়ী প্রায় আড়াই হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ভালো ব্র্যান্ডের ফ্যানে সাধারণত পাঁচ থেকে ১২ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। বিশেষ করে মোটর রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা থাকলে সেটি আরও ভালো।

ফ্যানের যত্ন যেভাবে নেবেন

ফ্যান কিনে ফেললেই দায়িত্ব শেষ নয়। সঠিকভাবে যত্ন না নিলে ফ্যান দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

  • নিয়মিত ফ্যানের ব্লেড ও গ্রিল পরিষ্কার করা
  • বিদ্যুৎ চলে গিয়ে আবার এলে কিছুক্ষণ পর ফ্যান চালু করা
  • ফ্যানের তার ও সুইচ নিয়মিত পরীক্ষা করা
  • সরাসরি রোদ যেন ফ্যানের ওপর না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা
  • সিলিং ফ্যানের সেফটি ওয়্যার ঠিক আছে কি না যাচাই করা

সচেতন হলেই সঠিক সিদ্ধান্ত

গরমের সময় স্বস্তি পেতে ফ্যান একটি প্রয়োজনীয় যন্ত্র। তবে শুধু দাম দেখে ফ্যান কিনলে পরে আফসোস হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, ফিচার এবং ওয়ারেন্টি, এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করেই ফ্যান কেনা উচিত। এতে যেমন বিদ্যুৎ বিল কম হবে, তেমনি ফ্যানও দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা
ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমছে না গরম
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে খাবেন যে ৪ ডাল
তীব্র গরমে ব্যায়াম করবেন যেভাবে, শরীর থাকবে নিরাপদ