ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অতিরিক্ত বড় স্তন নিয়ে বিপাকে নারীরা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই মনে করেন বড় আকৃতির স্তন সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় ঠিক উল্টো। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত বড় স্তন নারীদের শরীর ও মনের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

আর্জেন্টিনার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জানান, কৈশোর থেকেই বড় স্তনের কারণে তিনি লজ্জা ও শারীরিক কষ্টে ভুগেছেন। বিষয়টি আড়াল করতে তিনি কুঁজো হয়ে হাঁটতেন। দীর্ঘদিনের সেই অভ্যাস এখনো তার শরীরে ব্যথা তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় স্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী পিঠ ও ঘাড় ব্যথা, মাথাব্যথা, দেহভঙ্গির সমস্যা, অবশভাব, এমনকি ঘুমের ব্যাঘাতও হতে পারে। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপও বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমস্যার কারণে অনেক নারী স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করতে পারেন না। অনেক সময় পছন্দের কাজ থেকেও দূরে সরে যেতে হয়।

আরও পড়ুন

চিকিৎসকরা বলছেন, বড় স্তন স্বাভাবিকভাবেই ভারী হওয়ায় শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে ঘাড় ও পিঠে চাপ তৈরি হয়। ঠিকমতো সমর্থন দিতে পারে এমন অন্তর্বাস খুঁজে পাওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

অনেক নারীকে একসঙ্গে দুই বা তিনটি অন্তর্বাস পরতে হয়, যা অস্বস্তির পাশাপাশি বাড়তি খরচও বাড়ায়।

বিশ্বজুড়ে স্তনের আকার ছোট করার অস্ত্রোপচারও বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে লাখ লাখ নারী এই অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। কারণ তারা শুধু সৌন্দর্য নয়, স্বস্তি ও সুস্থতা চান।

একজন ভুক্তভোগী জানান, অস্ত্রোপচারের পর তিনি নিজেকে মুক্ত অনুভব করেছেন। দৈনন্দিন কাজ করাও সহজ হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সঠিক মাপের অন্তর্বাস না পরলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এতে ব্যথা বাড়ার পাশাপাশি ত্বক ও শরীরের ভেতরের অংশেও ক্ষতি হতে পারে।

তবে সমাজে এখনো অনেকেই এই বিষয়টিকে শুধুই সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে দেখেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি মূলত একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যা অবহেলা করলে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শরীরের অস্বস্তিকে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে জরুরী।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
সম্পর্ক শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। জীবনও নিজের মতো এগিয়ে চলছে। আপনি জানেন, মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না।
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
আরও পড়ুন
বাসি ভাত গরম করে খাচ্ছেন? 
গরমে প্রতিদিন স্যালাইন খাওয়া নিরাপদ নয় কেন? 
যে অভ্যাসে বিপদ ডেকে আনছে আপনার শিশু