শিশুদের অ্যালার্জি কমানোর নতুন পদ্ধতি জানা গেল গবেষণায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ১১:০২ এএম


শিশুদের অ্যালার্জি কমানোর নতুন পদ্ধতি জানা গেল গবেষণায়
সময়মতো ডিমসহ অ্যালার্জিযুক্ত খাবার খাওয়ালে কমে শিশুদের অ্যালার্জি, নতুন গবেষণা   । ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের খাবারে ডিমসহ অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে এমন খাবার দেরিতে দেওয়ার পুরোনো ধারণা এখন বদলে গেছে। নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ছয় মাস বয়সের মধ্যেই ডিমসহ অ্যালার্জি-ঝুঁকিপূর্ণ খাবার দেওয়া শুরু করলে শিশুদের মধ্যে ডিমের অ্যালার্জি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।

‘জামা পেডিয়াট্রিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই নতুন নির্দেশনা চালুর পর শিশুদের মধ্যে ডিম অ্যালার্জির হার ১৭ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

গবেষকেরা বলছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে জনসংখ্যা পর্যায়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

কীভাবে বদলালো আগের ধারণা

আগে ধারণা ছিল, যেসব পরিবারের মধ্যে অ্যালার্জির ইতিহাস আছে, তাদের শিশুকে ডিমসহ অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার দেরিতে খাওয়াতে হবে—প্রায় এক থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত।

কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা যায়, এই দেরি আসলে অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্য করে না। বরং উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে।

এরপর নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, ছয় মাস বয়স থেকেই ধীরে ধীরে এসব খাবার শিশুকে খাওয়ানো শুরু করা উচিত।

আরও পড়ুন

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ৭ হাজারের বেশি শিশুর ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, নতুন নির্দেশনা চালুর পর ছয় মাসের মধ্যে ডিম খাওয়ানো শুরু করার হার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

একই সঙ্গে ডিম অ্যালার্জির হার ৯.২ শতাংশ থেকে কমে ৭.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি থাকা শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

কেন আগেভাগে খাবার দেওয়া কাজে দেয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছোট বয়সেই খাবারের সঙ্গে পরিচিত হলে সেটিকে নিরাপদ হিসেবে চিনতে শেখে। ফলে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঝুঁকি কমে যায়।

যেসব শিশুর ত্বকের সমস্যা বা একজিমা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে আগেভাগে খাবার পরিচয় করানো আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মত

গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখাচ্ছে যে, সময়মতো নীতিমালা পরিবর্তন এবং তা বাস্তবায়ন করলে জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তারা বলছেন, আগে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তা যথেষ্ট প্রমাণভিত্তিক ছিল না—এবং এখনকার নতুন তথ্য সেটিকে সংশোধন করছে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুকে খাবার দেওয়ার আগে অবশ্যই তার শারীরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। যেমন—বসে থাকা, মাথা নিয়ন্ত্রণ করতে পারা এবং খাবার গিলতে পারার সক্ষমতা।

এক বছরের নিচে শিশুকে খুব সতর্কভাবে নরম করে খাবার দিতে হবে, যাতে শ্বাসরোধের ঝুঁকি না থাকে।

নতুন গবেষণা বলছে, ভয় নয়—সঠিক সময়ে সঠিক খাবার দেওয়াই হতে পারে অ্যালার্জি প্রতিরোধের চাবিকাঠি। সময়মতো ডিমসহ খাবার পরিচয় করানো শিশুদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যকে আরও নিরাপদ করতে পারে। 

সূত্র: সিএনএন


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission