ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসিক চাপ তৈরি করে নিখুঁত হওয়ার প্রচেষ্টা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
সংগৃহিত

সবকিছুতে নিখুঁত থাকার প্রচেষ্টা একটি ইতিবাচক গুণ। তবে নিখুঁত হওয়ার নিরন্তর তাগিদ আপনার মনকে আচ্ছন্ন করে ফেললে তা দ্রুত দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ এবং অবসাদে পরিণত হতে পারে। এই জটিল সম্পর্কটি বোঝা এবং এই বিষাক্ত চক্র থেকে বেরিয়ে আসার উপায় জানাটা জরুরি। তাহলে সমাধান সহজ হবে

কেন নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগ বাড়ায়?

নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা তীব্র উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত, কারণ এটি অত্যন্ত উচ্চ মান পূরণ করার এবং যেকোনো মূল্যে ভুল এড়ানোর জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা তাদের কর্মক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন, সমালোচনার ভয় পান এবং মনে করতে পারেন যে নিখুঁতের চেয়ে কম কিছু মানেই ব্যর্থতা। এই ক্রমাগত স্ব-আরোপিত চাপ মনকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখতে পারে, যা ক্রমাগত উদ্বেগ, আত্ম-সন্দেহ এবং স্বস্তি পেতে অসুবিধার কারণ হয়।

অতিরিক্ত চাপ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ভয়ের কারণে ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ বা দৈনন্দিন কাজও অতিরিক্ত চাপের মনে হতে পারে। এর ফলে নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা তাদের কাজ পরীক্ষা করতে, পুনরায় করতে বা অতিরিক্ত চিন্তা করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে পারেন, যা উদ্বেগ এবং মানসিক অবসাদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন

ত্রুটির ওপর মনোযোগ দেওয়া

এই সংযোগের আরেকটি কারণ হলো, নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা প্রায়শই তাদের অর্জনের চেয়ে ত্রুটির ওপর বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করে। অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হওয়ার পরিবর্তে তারা ক্রমাগত নিজেকে অবাস্তব মানদণ্ড বা অন্যদের সাথে তুলনা করতে পারে, যা অপূর্ণতা এবং হতাশার অনুভূতির জন্ম দেয়। এই মানসিকতা এমন একটি চক্র তৈরি করতে পারে যেখানে উদ্বেগ নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং নিখুঁত হওয়ার প্রচেষ্টা উদ্বেগকে আরও বৃদ্ধি করে।

অনিশ্চয়তার অনুভূতি

অনেক নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তি অনিশ্চয়তার সঙ্গেও লড়াই করেন এবং যখন ফলাফল তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে তখন অস্বস্তি বোধ করেন, যা দৈনন্দিন পরিস্থিতিকে আরও চাপের মধ্যে ফেলে দেয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ভয় এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে তারা ঝুঁকি নিতে, নতুন কিছু চেষ্টা করতে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করতেও বিরত থাকেন।

উদ্বেগ মোকাবিলার উপায়

ভালো করার চেষ্টা স্বাস্থ্যকর হলেও, নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা তখনই ক্ষতিকর হয়ে ওঠে যখন এটি মানসিক সুস্থতা, সম্পর্ক, কাজ বা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। এটি মোকাবিলা করার জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে শিখুন। মেনে নিন যে ভুল করা বিকাশের একটি স্বাভাবিক অংশ। নিখুঁত হওয়ার পরিবর্তে অগ্রগতির ওপর মনোযোগ দিলে উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা সামলানোর জন্য নমনীয় চিন্তাভাবনা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
ববিতে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ কর্মশালা
কেন মদ পান করেছিলেন সেই তরুণী? নিজেই জানালেন কারণ
ফুলের সুবাসেই কমবে মানসিক চাপ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমাতে যেসব আমল করবেন