ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায় কেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
পরিশ্রম না করেও সারাক্ষণ ঘুম পায় কেন । ছবি: সংগৃহীত

পরিশ্রম না করেও যদি বারবার ঘুম পায়, বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। শুধু অলসতা নয়, শরীরের নানা সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘুমের সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক থাকলেও, পরিশ্রম না করেও অনেকের সারাক্ষণ ঘুম পায়। কেন এমন হয়?

বিশেষজ্ঞের মতে, ঘুম শুধু শারীরিক ক্লান্তির কারণে আসে না। দীর্ঘ সময় একই ধরনের একঘেয়ে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব কিংবা রাতের শিফটে কাজ করার কারণেও দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।

এছাড়া শরীরের বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনও এর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তখন ক্লান্তি, অবসাদ ও অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন

ডায়াবেটিস থাকলেও এমন সমস্যা হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে বা হঠাৎ কমে গেলেও শরীরে দুর্বলতা ও তন্দ্রাভাব তৈরি হয়।

চিকিৎসকেরা আরও জানান, কিডনি বা লিভারের জটিলতা থাকলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলেও সারাক্ষণ ঘুম পেতে পারে।

ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে গেলে দুর্বলতা ও ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়। একইভাবে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলেও ক্লান্তি ও মাথা ঝিমঝিমের সঙ্গে ঘুম পেতে পারে।

রক্তশূন্যতা থাকলেও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি ও ঘুমের অনুভূতি তৈরি হয়।

ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এই সমস্যা থাকতে পারে। আবার রাতে ভালোভাবে ঘুম না হলে বা ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম আসে।

অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা, অ্যালার্জি, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধ ঘুমের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

ঘুম ঘুম ভাবের পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—

১. সব সময় ক্লান্তি ও অবসাদ লাগা
২. মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করা
৩. খিটখিটে মেজাজ
৪. মনোযোগ ও স্মরণশক্তি কমে যাওয়া
৫. কাজের দক্ষতা কমে যাওয়া

কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কয়েকটি অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা কমানো সম্ভব।

১. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।
২. পর্যাপ্ত সময় ঘুমান।
৩. দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না এবং মোবাইল বা পর্দার সামনে সময় কম কাটান।
৪. প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খান।
৬. ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি, লিভারের রোগ বা ঘুমের সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
৭. কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম পেলে চিকিৎসককে জানান।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

চিকিৎসকের মতে, মানসিক চাপ, ভাইরাসজনিত অসুস্থতা বা কিছু ওষুধের কারণে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ঘুম ঘুম ভাব থাকতে পারে। তবে যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই সমস্যা থাকে, কর্মক্ষমতা কমে যায় বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন
রান্নার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পেঁয়াজ কাটতে হয় প্রায় প্রতিদিনই।
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
সকালের শুরুতে এক কাপ চা, বিকেলে ক্লান্তি দূর করতে আবারও চায়ের কাপে চুমুক—এমন অভ্যাস অনেকেরই।
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, অবসর সময়ে সোফায় গা এলিয়ে মুঠোফোন দেখা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম না করা—আধুনিক জীবনে এমন অভ্যাস অনেকেরই।
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
আরও পড়ুন
মাত্র ৯০ মিনিট ঘুমিয়েই পাওয়া যায় ১৪ হাজার ডলার
কম ঘুমে শরীরে যে ৫ বড় পরিবর্তন হয়
রাতে ঘুম কম, সকালে মাথাব্যথা? যেভাবে মিলবে স্বস্তি 
জামিনে বের হওয়া ছেলের হাতে খুন হলেন ঘুমন্ত বাবা