
রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি, সকালে উঠেই মাথা ভার বা ব্যথা। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে মাথাব্যথার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে মাইগ্রেন ও চিন্তায় মাথাব্যথা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রামই দেয় না, মাথাব্যথার ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ঘুম কমলে কেন মাথাব্যথা হয়?
ঘুমের ঘাটতি শরীরের ব্যথা অনুভব করার সীমা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে সামান্য অস্বস্তিও বেশি ব্যথা হিসেবে অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে মাইগ্রেন ও চিন্তায় মাথাব্যথার সঙ্গে ঘুমের অভাবের সম্পর্ক দেখা যায়।
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশে বেশি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর সঙ্গে আলো ও শব্দে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব কিংবা বমিও হতে পারে।
অন্যদিকে চিন্তায় মাথাব্যথায় মাথার ওপরের অংশ, দুই পাশ বা পেছনে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যথা হতে পারে। সাধারণত আলো বা শব্দে এ ধরনের ব্যথা খুব বেশি বাড়ে না।
কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?
ঘুমের প্রয়োজন বয়সভেদে আলাদা। নবজাতক থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবার ঘুমের চাহিদা এক নয়।
প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমকে সাধারণত কম ঘুম হিসেবে ধরা হয়।
মাথাব্যথা হলে কী করবেন?
ঘুমের অভাবে টানধরনের মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ব্যথার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কমতে পারে।
চিন্তায় মাথাব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যথানাশকের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ধরনের ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে।
তবে মাথাব্যথা বারবার হলে বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে নিজের মতো করে নিয়মিত ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘরেই ব্যথা কমানোর কিছু উপায়
চিন্তায় মাথাব্যথায় মানসিক চাপ কমানো, হালকা ব্যায়াম ও শিথিল হওয়ার কিছু পদ্ধতি উপকারী হতে পারে।
মাথায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ঠান্ডা বা গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে। হালকা মালিশও কিছু ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে।
মাইগ্রেন হলে আলো ও শব্দ কম এমন অন্ধকার ও শান্ত ঘরে বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে। ঘাড়ের পেছনে ঠান্ডা সেঁক এবং কপালের ব্যথার জায়গায় হালকা মালিশও করা যেতে পারে।
মাথাব্যথা এড়াতে ঘুমের অভ্যাস ঠিক করুন
ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখা মাথাব্যথা প্রতিরোধের অন্যতম সহজ উপায়। এর জন্য কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলতে পারেন—
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান ও উঠুন: নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
দিনে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: ব্যায়াম ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শেষ করা ভালো।
রাতে হালকা খাবার খান: রাতে বেশি ভারী খাবার খেলে বদহজম বা অস্বস্তির কারণে ঘুমে সমস্যা হতে পারে।
দিনে পর্যাপ্ত আলো পান: দিনের আলো শরীরের ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
ঘুমের আগে চা-কফি এড়িয়ে চলুন: ঘুমানোর ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা ভালো।
ঘর ঘুমের উপযোগী রাখুন: শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক রাখুন। ঘর অতিরিক্ত গরমও যেন না হয়।
ঘুমের জায়গা থেকে কাজের জিনিস সরিয়ে রাখুন: টেলিভিশন, কম্পিউটার, কাজের কাগজপত্র বা মানসিক চাপ বাড়ায় এমন জিনিস শোবার ঘরে না রাখাই ভালো।
ঘুমের আগে নির্দিষ্ট অভ্যাস তৈরি করুন: বই পড়া, ধ্যান করা বা হালকা গরম পানিতে গোসলের মতো শান্ত কাজ ঘুমের প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে পারে। শোবার কয়েক ঘণ্টা আগে মুঠোফোন, কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক পর্দা এড়িয়ে চলা ভালো।
ঘুম না এলে জোর করবেন না: নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ঘুম আসবে, এমন নয়। ঘুম না এলে অতিরিক্ত চেষ্টা ও দুশ্চিন্তা উল্টো মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
রাতে অতিরিক্ত পানি পান করবেন না: শোবার আগে বেশি পানি পান করলে রাতে বারবার ঘুম ভাঙতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুমই হতে পারে সহজ সমাধান
গবেষণায় ঘুমের ঘাটতি ও মাইগ্রেন এবং টানধরনের মাথাব্যথার মধ্যে স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তাই নিয়মিত মাথাব্যথায় ভুগলে শুধু ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ঘুমের সময় ও ঘুমের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। মাথাব্যথা ঘন ঘন হলে, তীব্র হলে বা স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ছবির ক্যাপশন: ঘুমের ঘাটতি শরীরের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে মাথাব্যথার প্রবণতা বাড়াতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
আরটিভি/জেএমএ


