ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কম ঘুমে শরীরে যে ৫ বড় পরিবর্তন হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছবি: সংগৃহীত

ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করার উপায় নয়, শরীর ও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার জন্যও এটি অত্যন্ত জরুরি। আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও শরীর তখন নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যায়। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখা, শরীরের সুস্থতা বজায় রাখা এবং শিশু-কিশোরদের বেড়ে ওঠায় ঘুমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু দিনের বেলায় ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাবই হয় না, বরং হৃদ্‌যন্ত্র, রক্তচাপ, শরীরের ওজন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও ভালো মানের ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।

হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়ে

ঘুমের সময় শরীর কিছুটা বিশ্রামের অবস্থায় থাকে। এ সময় রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দন কমে যায়। ফলে জেগে থাকার সময়ের তুলনায় হৃদ্‌যন্ত্রকে কম পরিশ্রম করতে হয়।

কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ক্ষুধা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়

ঘুমের সঙ্গে শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনেরও সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এসব হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

এর ফলে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত মিষ্টি, চর্বিযুক্ত ও লবণাক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শরীরচর্চার আগ্রহ ও শারীরিক সক্রিয়তাও কমে যেতে পারে।

দীর্ঘদিন এমন চললে শরীরে অতিরিক্ত ওজন জমা এবং বিপাকীয় নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটে

ঘুমের অভাব শরীরের ইনসুলিনের প্রতি স্বাভাবিক সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে শরীরে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া ও শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়াও যুক্ত হয়ে শরীরের ওজন বাড়াতে পারে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে

ঘুমের সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ সক্রিয় থাকে। শরীরের কিছু রোগ প্রতিরোধকারী কোষ ঘুমের সময় আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। অর্থাৎ শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও ঘুম গুরুত্বপূর্ণ।

স্মৃতি ও চিন্তাশক্তিতে প্রভাব পড়ে

ঘুম শেখা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত বা ভালো মানের ঘুম না হলে কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া এবং পরিষ্কারভাবে চিন্তা করা কঠিন হতে পারে।

এর ফলে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা কিংবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

শ্বাসকষ্টের সমস্যাও বাড়তে পারে

ঘুমের সময় শ্বাস নেওয়ার গতি ও গভীরতা কিছুটা কমে যায়। ফলে হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে।

হাঁপানির উপসর্গ বিশেষ করে ভোরের দিকে বেশি দেখা দিতে পারে। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ থাকলেও ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বাড়তে পারে।

কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। যারা নিয়মিত ৭ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

তবে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম সবসময় ক্ষতিকর নয়। তরুণদের, দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করছেন এমন ব্যক্তিদের কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেশি ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুদের প্রয়োজনীয় ঘুমের সময় বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হয়। ৪ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা, ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুর ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা, ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়।

ঘুম খুব কম হচ্ছে বা অতিরিক্ত হচ্ছে বলে মনে হলে নিজের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে এবং শিশুর ক্ষেত্রে শিশুর চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

সূত্র: ন্যাশনাল হার্ট, লাং এন্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট, ইউএসএ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
কাজের চাপ, যানজট কিংবা অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারের কারণে অনেকেই প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেও দীর্ঘক্ষণ তা আটকে রাখেন। তবে একবার এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলেই কি শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হয়?
টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়, জানুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের কলাই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে কলার শর্করা, স্বাদ, গঠন ও হজমের ওপর প্রভাবের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে।
কাঁচা নাকি পাকা, কোন কলা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
মাত্র ৯০ মিনিট ঘুমিয়েই পাওয়া যায় ১৪ হাজার ডলার
রাতে ঘুম কম, সকালে মাথাব্যথা? যেভাবে মিলবে স্বস্তি 
জামিনে বের হওয়া ছেলের হাতে খুন হলেন ঘুমন্ত বাবা
অ্যালার্ম ছাড়াই ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠবেন যেভাবে