ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পারফিউম ছাড়াই দূর হবে ঘামের দুর্গন্ধ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ পিএম
পারফিউম ছাড়াই দূর হবে ঘামের দুর্গন্ধ । ছবি: সংগৃহীত

বর্ষাকালের ভ্যাপসা গরমে ঘাম হওয়া খুবই স্বাভাবিক। একটু রোদে বের হলেই বা রান্নাঘরে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। অনেকেই ঘামের দুর্গন্ধ ঢাকতে সুগন্ধি ব্যবহার করেন। তবে এর গন্ধ বেশিক্ষণ থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলেই সুগন্ধি ছাড়াই শরীরের দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

গোলাপজল হতে পারে সহজ সমাধান

গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে। ১০০ মিলি গোলাপজলের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ বিশুদ্ধ পানি মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। গোসলের পর বগল, ঘাড় ও হাঁটুর পেছনে ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় সতেজ অনুভূতি থাকবে।

গোলাপজল_
গোলাপজল

আরও পড়ুন

ফিটকিরির ব্যবহারেও মিলবে উপকার

ফিটকিরি প্রাকৃতিকভাবে জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত ঘামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। গোসলের পর ভেজা ফিটকিরি বগল, ঘাড় বা পায়ের ভাঁজে হালকা করে ঘষে শুকিয়ে নিলেই উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ফিটকিরি
ফিটকিরি

চন্দন গুঁড়ার প্রাকৃতিক সুবাস

চন্দন গুঁড়া ত্বকের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ সুবাস ধরে রাখতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বেশি ঘাম হয় এমন স্থানে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

চন্দন_গুঁড়া
চন্দন গুঁড়া

নিমপাতার জীবাণুনাশক গুণ

নিমপাতা শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে কার্যকর হতে পারে। এক মুঠ নিমপাতা দুই লিটার পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই পানি গোসলের পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং জীবাণুর বৃদ্ধি কমে।

নিমপাতা
নিমপাতা

অতিরিক্ত ঘাম কমাতে প্রাকৃতিক গুঁড়া

অর্ধেক কাপ অ্যারারুট গুঁড়ার সঙ্গে এক চা চামচ কর্নস্টার্চ ও এক টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া মিশিয়ে গোসলের পর শুকনো ত্বকে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষিত হয় এবং শরীর দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকে।

অ্যারারুট-গুঁড়া
অ্যারারুট গুঁড়া

খাদ্যাভ্যাসেও রাখতে হবে নজর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের দুর্গন্ধ শুধু বাইরের কারণে নয়, খাদ্যাভ্যাসের কারণেও বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রসুন, মদ্যপ পানীয়, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও বেশি চিনিযুক্ত পানীয় শরীরের গন্ধ বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, বেশি ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

সামান্য কিছু অভ্যাস বদল এবং কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের নিয়মিত ব্যবহারেই বর্ষার ভ্যাপসা গরমেও শরীরকে রাখা সম্ভব সতেজ ও দুর্গন্ধমুক্ত।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
জেনে নিন দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখার সহজ উপায়
ঘাড়ে পারফিউম স্প্রে করলে কি ক্যানসার হয়? যা বলছে বিজ্ঞান
সুরভির ছোঁয়া: ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসে মেয়েদের পারফিউম