ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

জেনে নিন দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পারফিউমটি কিছুদিন ব্যবহারের পর আগের মতো ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। এর জন্য সবসময় সুগন্ধির মান বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। ভুলভাবে সংরক্ষণের কারণেও পারফিউমের কার্যকারিতা ও সুবাস নষ্ট হতে পারে।

তাপ, আলো, আর্দ্রতা ও বাতাসের সংস্পর্শে পারফিউমের সুগন্ধি উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখা সম্ভব। পারফিউম রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক স্থান। শোবার ঘরের ড্রয়ার বা আলমারির ভেতর এ ক্ষেত্রে উপযোগী। পারফিউম কেনার সময় পাওয়া বাক্সটিও ফেলে না দিয়ে ব্যবহার করা ভালো। এতে বোতলটি আলো থেকে সুরক্ষিত থাকে।

অনেকে পারফিউম দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য ফ্রিজে রাখেন। তবে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত প্রয়োজন হয় না। বরং বাথরুমে পারফিউম রাখা এড়িয়ে চলা উচিত। গোসলের সময় তৈরি হওয়া তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বাথরুমের তাপমাত্রা বারবার পরিবর্তিত হয়, যা সুগন্ধির উপাদানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া জানালার পাশে বা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন স্থানেও পারফিউম রাখা ঠিক নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সুগন্ধি তেলের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে এর স্বাভাবিক সুবাস নষ্ট হয়ে যায়।

পারফিউম ব্যবহারের পর বোতলের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা জরুরি। বোতল খোলা থাকলে বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে দীর্ঘদিনে সুগন্ধির উপাদানে পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই স্প্রে বোতল ব্যবহার করা তুলনামূলক সুবিধাজনক।

অন্যদিকে, পারফিউমের সুবাস শরীরে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে কিছু বিষয়ও খেয়াল রাখা দরকার। শুষ্ক ত্বকের তুলনায় আর্দ্র ত্বকে সুগন্ধি বেশি সময় স্থায়ী হয়। তাই পারফিউম ব্যবহারের আগে সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার বা বডি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

পারফিউম স্প্রে করার পর কবজি দুটো পরস্পরের সঙ্গে ঘষা উচিত নয়। এতে ঘর্ষণ ও তাপের কারণে সুগন্ধির ওপরের স্তরের ঘ্রাণ দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। স্প্রে করার পর স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে দেওয়া ভালো। ঘাড়, কবজি, কানের পেছনে ও কনুইয়ের ভাঁজের মতো পালস পয়েন্টে পারফিউম ব্যবহার করলে শরীরের উষ্ণতায় সুবাস ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।

পারফিউম নষ্ট হয়ে গেলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। রং অস্বাভাবিকভাবে বাদামি হয়ে যাওয়া, তরল ঘন হয়ে যাওয়া কিংবা ভিনেগারের মতো গন্ধ পাওয়া এসব পরিবর্তন দেখা দিলে বুঝতে হবে সুগন্ধিটির গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে।

তাই প্রিয় পারফিউম দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে ঠান্ডা ও অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ, আর্দ্রতা ও সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং ব্যবহারের পর বোতলের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়া কিংবা নিজের ইচ্ছায় মাথা ন্যাড়া করা যে কারণেই হোক, টাক মাথা নিয়ে সংকোচের কিছু নেই।
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
প্রচণ্ড রোদে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সুস্থ থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়।
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?
সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শখ করে দামি পারফিউম স্প্রে করলেন। কিন্তু লোকাল বাসের ভিড় ঠেলে কিংবা কিছুটা হেঁটে অফিসে পৌঁছাতেই দেখা গেল, শরীর থেকে উধাও হয়ে গেছে সুগন্ধ। উল্টো ঘামের দুর্গন্ধে নিজেই অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই হয়। অনেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য সুগন্ধির ব্র্যান্ড কিংবা মানকে দায়ী করেন। তবে বাস্তবে সমস্যাটা অনেক সময় সুগন্ধির নয়, বরং ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারের। বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তিনটিই সুগন্ধি পণ্য হলেও এদের কাজ এক নয়। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা, ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সুবাস ধরে রাখার জন্য আলাদা ধরনের পণ্য প্রয়োজন। তাই কখন কোনটি ব্যবহার করা উচিত, তা জানা জরুরি। ডিওডোরেন্ট প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়, গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয় কিংবা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকতে হয় এমন মানুষের জন্য ডিওডোরেন্ট বেশ কার্যকর। সাধারণভাবে ঘামের নিজস্ব গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। ডিওডোরেন্টের মূল কাজ হলো সেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুগন্ধি উপাদানের পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সব ডিওডোরেন্ট ঘাম বন্ধ করে না। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যকে সাধারণত ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ বলা হয়। এতে ঘামগ্রন্থির কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমাতে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকতে পারে। তাই ঘামের গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলে ডিওডোরেন্ট উপকারী, আর অতিরিক্ত ঘাম কমাতে চাইলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে। পারফিউম বিয়ে, পার্টি, করপোরেট মিটিং কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় সুবাসের জন্য পারফিউমের জুড়ি নেই। পারফিউমে সুগন্ধি তেলের ঘনত্ব সাধারণত বডি মিস্টের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর সুবাস তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে পারফিউমের মূল কাজ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়; এটি মূলত শরীর বা পোশাকে কাঙ্ক্ষিত সুবাস যোগ করে। তাই প্রচণ্ড ঘামে ভেজা শরীরে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তীব্র সুবাস মিশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে। বডি মিস্ট বডি মিস্ট হলো তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের সুগন্ধি। এতে সুগন্ধি উপাদানের ঘনত্ব পারফিউমের চেয়ে কম থাকায় এর সুবাসও সাধারণত কোমল ও স্নিগ্ধ হয়। যারা তীব্র সুগন্ধি পছন্দ করেন না কিংবা হালকা সতেজ অনুভূতি চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট ভালো বিকল্প হতে পারে। গোসলের পর, বাসায় থাকার সময় কিংবা বিকেলে হাঁটতে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে বডি মিস্টের সুবাস সাধারণত পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে। তাহলে কোনটি আপনার জন্য? ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু পারফিউমের ওপর নির্ভর না করে ডিওডোরেন্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। আর দীর্ঘ সময় শরীরে সুন্দর সুবাস ধরে রাখতে চাইলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার ও শুকনো শরীরে এগুলো ব্যবহার করাই ভালো। অন্যদিকে, যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট হতে পারে আদর্শ। অর্থাৎ, তিনটি পণ্যের কাজ তিন রকম। ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্ট, ঘাম কমাতে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের জন্য পারফিউম আর হালকা সতেজ অনুভূতির জন্য বডি মিস্ট—ব্যবহারটা হওয়া উচিত প্রয়োজন বুঝে। আরটিভি/এসকে
ঘামের গন্ধ দূর করতে বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম কোনটি সেরা?
আরও পড়ুন
ঘাড়ে পারফিউম স্প্রে করলে কি ক্যানসার হয়? যা বলছে বিজ্ঞান
পারফিউম ছাড়াই দূর হবে ঘামের দুর্গন্ধ
সুরভির ছোঁয়া: ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসে মেয়েদের পারফিউম