ঢাকায় ব্যাচেলর হিসেবে বাসা খোঁজা অনেকের জন্যই এক ধরনের ভোগান্তির নাম। পছন্দের লোকেশন ও ভাড়া মিললেও শেষ মুহূর্তে শুধু ‘ব্যাচেলর’ পরিচয়ের কারণেই অনেক বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া দিতে রাজি হন না। ফলে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী উভয় শ্রেণির ব্যাচেলরদেরই বাসা খুঁজতে বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়।
তবে কিছু কৌশল অনুসরণ করলে এই ঝামেলা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমেই এমন ভবন বা এলাকায় খোঁজ নেওয়া উচিত যেখানে আগে থেকেই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া রয়েছেন। সহকর্মী, বন্ধু, সিনিয়র বা পরিচিতদের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে বাসা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
বাসা খোঁজার ক্ষেত্রে ভবনের দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন। অনেক সময় কোনো বাসায় ‘টু-লেট’ সাইনবোর্ড না থাকলেও কোন ফ্ল্যাট খালি হবে বা কোন বাড়িওয়ালা ব্যাচেলর ভাড়া দেন এসব তথ্য তাদের কাছেই থাকে।
একই এলাকায় একাধিক ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেখলে প্রতিটি নম্বরের ছবি তুলে রাখা যেতে পারে। পরে ফোন করে শুরুতেই জেনে নেওয়া উচিত ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হবে কি না। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে ঘোরাঘুরি কমে।
মাসের শেষের দিকে বাসা খোঁজার সুযোগও তুলনামূলক বেশি থাকে। কারণ এ সময় অনেক ভাড়াটিয়া বাসা ছাড়েন এবং নতুন ভাড়াটিয়া নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। তাই প্রয়োজনের কয়েক সপ্তাহ আগেই খোঁজ শুরু করা ভালো।
পরিচিত কারও মাধ্যমে বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আস্থা তৈরি সহজ হয়। পাশাপাশি কতজন থাকবেন, কোথায় পড়াশোনা বা চাকরি করেন এবং কতদিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে এসব তথ্য স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। শুধু ‘আমরা ভালো ব্যাচেলর’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনে পরিচয়পত্র বা রেফারেন্স দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, বাসা পাওয়ার আশায় নিজেকে ‘ফ্যামিলি’ পরিচয় দেওয়া বা তথ্য গোপন করা উচিত নয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ পেলে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অনলাইনে বাসা খুঁজতে শুধু ‘বাসা ভাড়া’ লিখে সার্চ না করে এলাকার নামের সঙ্গে ‘ব্যাচেলর বাসা’, ‘সাবলেট’, ‘রুমমেট চাই’, ‘সিট ভাড়া’ বা ‘শেয়ারড ফ্ল্যাট’ লিখে খুঁজলে বেশি ফল পাওয়া যেতে পারে।
পুরো ফ্ল্যাট না পেলে শেয়ারড ফ্ল্যাট বা সাবলেটও হতে পারে ভালো বিকল্প। তবে ওঠার আগে বাড়িওয়ালার অনুমতি, ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, রান্না ও বাসার নিয়মকানুন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া জরুরি।
বাসা দেখতে যাওয়ার সময় অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো। তবে প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত নথির কপি কারও কাছে দেওয়া উচিত নয়।
এ ছাড়া বাসা নেওয়ার আগে অতিথি আনার নিয়ম, বাসায় ফেরার নির্ধারিত সময়, ছাদ ব্যবহারের সুযোগ এবং কতজন থাকার অনুমতি রয়েছে এসব বিষয়ও নিশ্চিত হয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে, কোনো বাড়িওয়ালা যদি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেবেন না, তাহলে সময় নষ্ট না করে অন্য বিকল্প খোঁজাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খোঁজ শুরু করা, পরিচিতদের সহায়তা নেওয়া এবং সঠিক মাধ্যমে অনুসন্ধান চালালে ঢাকায় ব্যাচেলরদের জন্য বাসা খোঁজার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরটিভি/এসকে




